৩ দিন পর মিলল আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। টানা প্রায় ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান অভিযান শেষে ধসে…
মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিল ভারসাম্য রক্ষার রহস্য উন্মোচনের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন বিজ্ঞানী— মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি।
গতকাল সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটি জানায়, তিন বিজ্ঞানী দেহের ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।
মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মতো বহিরাগত জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু কখনো কখনো ভুলবশত এটি শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গকেও আক্রমণ করে বসে, যার ফলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ— যেমন টাইপ-১ ডায়াবেটিস।
এই ভুল আক্রমণ প্রতিরোধের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, সেটিই খুঁজে বের করেছেন তিন গবেষক। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন “রেগুলেটরি টি-সেল”, যা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজস্ব কোষে আক্রমণ ঠেকায়।
জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে ইঁদুরের ওপর গবেষণার মাধ্যমে এই রেগুলেটরি টি-সেল শনাক্ত করেন। তিনি দেখান, সিডি২৫ নামের একটি প্রোটিন ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত রাখে এবং অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া কমায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র্যামসডেল গবেষণায় খুঁজে পান ‘এফওএক্সপি৩ (FOXP3)’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন, যার ত্রুটির কারণে অটোইমিউন রোগ সৃষ্টি হয়। এই আবিষ্কার রোগপ্রতিরোধের জিনগত ভিত্তি বোঝার ক্ষেত্রে ছিল এক বড় অগ্রগতি।
নোবেল কমিটির মতে, এই আবিষ্কার ক্যানসার, অটোইমিউন রোগ ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন–সংক্রান্ত চিকিৎসা গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীরা এখন নিয়ন্ত্রক টি-সেল ব্যবহার করে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন।
এক কৌশলে রোগীর দেহ থেকে নিয়ন্ত্রক টি-সেল আলাদা করে ল্যাবরেটরিতে তা বৃদ্ধি করা হয়, পরে পুনরায় দেহে প্রবেশ করিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হয়। অন্য কৌশলে এই কোষগুলোর জিন পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট অঙ্গকে ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
দ্য নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই তিন বিজ্ঞানীর কাজ মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জটিল সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ দিয়েছে— কাকে আক্রমণ করবে, কাকে রক্ষা করবে তা নির্ধারণের সূক্ষ্ম ভারসাম্য এখন অনেক পরিষ্কার।
বিজ্ঞানজগতে একে বলা হচ্ছে “ইমিউনোলজির ইতিহাসে এক মাইলফলক”, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেহারা পাল্টে দিতে পারে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au