ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে
৯২০। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযানের চতুর্থ দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার উপকূলীয় লা গুইরা শহরের একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
উদ্ধারের পর কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে বাবা ও ছেলেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত মানুষ করতালি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের উৎসাহ দেন। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কারণে দুজনকেই অত্যন্ত দুর্বল দেখাচ্ছিল। তাঁদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো ছিল এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
গত বুধবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় লা গুইরা অঞ্চল। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ করছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফরাসি সিভিল সিকিউরিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাবা-ছেলেকে উদ্ধারে টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা অভিযান চালাতে হয়েছে। বিশেষায়িত সার্চ ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধসে পড়া কংক্রিট ও লোহার কাঠামো সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য বলেন, চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় বাবা ও ছেলে দুজনই মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছিল। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং শরীরে তরল সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, এমন উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ধীর ও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সামান্য অসতর্কতায় ধ্বংসস্তূপ আরও ধসে পড়তে পারে।
এর আগের দিন একই আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও তাঁর নয় মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করে। তাঁদের বের করে আনার আগে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই স্যালাইন দেন এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করেন।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষ দুই দিনে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এরপরও ভেনেজুয়েলায় একের পর এক জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা আশা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স