ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলেকে জীবিত উদ্ধার
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযানের চতুর্থ দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার উপকূলীয়…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের নতুন আশা তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আপাতত উভয় পক্ষ সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, সমঝোতা স্মারকের সব বিষয়েই কারিগরি আলোচনা চলবে। আপাতত উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, যারা প্রথম এই সমঝোতার খবর প্রকাশ করে, জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এরপর কয়েক দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।
রোববার ভোরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি ইরান মেনে না চললে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে।
একই সময়ে ইসরায়েলও জানিয়েছে, তারা আবারও লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের একদিন পরই এই হামলা চালানো হয়। ইরান বলেছে, বৃহত্তর শান্তি চুক্তি টিকিয়ে রাখতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। চলমান সংঘাতের বড় সময়জুড়ে ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এমন সময় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযত থাকতে পারবে না এবং সামরিকভাবে তাদের শুরু করা অভিযান সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।
১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির লক্ষ্য ছিল চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
যদিও গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছিল, এরপরও সংঘাত আবার শুরু হয়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
রোববার ইরানের হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের হামলার কারণে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরকসম পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে বাহরাইনে দ্বিতীয় দফায় আবারও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের একটি হামলায় মুহাররাক প্রদেশের একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাহরাইন এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার নিখোঁজ হওয়া একটি জাহাজে সামরিক অভিযানের সময় ছিটকে আসা ধাতব টুকরার আঘাতে কাতারের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে বা এর জন্য কে দায়ী, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক এই সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা না গেলে সংঘাত আবারও নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au