৩ দিন পর মিলল আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। টানা প্রায় ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান অভিযান শেষে ধসে…
মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- গাজা যুদ্ধের অবসান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে মিসরে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও হামাসের পরোক্ষ আলোচনার প্রথম দিনটি শেষ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। তবুও মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলোতে ইতিবাচক ফল আসতে পারে।
মিসরের পর্যটন নগরী শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও নিরাপত্তা উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। হামাসের পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা খলিল আল-হায়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং আলোচক স্টিভ উইটকফ। মিসর ও কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
প্রথম দিনের আলোচনায় মূলত যুদ্ধবিরতি, বন্দিবিনিময় ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, হামাস বন্দিবিনিময় প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে, তবে তারা দাবি করেছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে বন্দি বিনিময় কার্যকর হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, তারা ‘ধাপে ধাপে’ শান্তি প্রক্রিয়ায় যেতে চায়, কিন্তু হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ যুদ্ধবিরতি চায় না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ে দ্রুত অগ্রগতি চান। এখন সময় এসেছে উভয় পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।”
ট্রাম্প নিজেও এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, “প্রথম দিনের আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। আরও কিছু বিষয় সমাধান করতে হবে, তবে শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া গেছে।”
আলোচনার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলকে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলার সময় গাজায় বোমা বর্ষণ চলতে পারে না। আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা তখনই টিকে থাকবে, যখন মাঠে সহিংসতা থামবে।”
তবে আলোচনার দিনেও গাজা উপত্যকার কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা হামাসের পক্ষ থেকে “উস্কানিমূলক” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি বলেন, “প্রথম দিনটিতে আমরা উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে শুনেছি। যদিও অগ্রগতি সীমিত, তবুও কিছু প্রাথমিক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।”
কাতারের প্রতিনিধি দলও জানিয়েছে, আলোচনায় মানবিক সহায়তা ও গাজার অবরোধ শিথিল করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা যুদ্ধের অবসান চাই, কিন্তু আমাদের জনগণের ওপর হামলা চলতে থাকলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।”
ইসরায়েলের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “হামাস যদি সত্যিই জিম্মি মুক্তি চায়, তাহলে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আমরা এখনো সব বিকল্প খোলা রেখেছি।”
প্রথম দিনের আলোচনার পর মঙ্গলবার নতুন বৈঠক বসার কথা রয়েছে। সেখানে বন্দিবিনিময় ও মানবিক করিডর খোলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব আলোচিত হবে। রেডক্রস জানিয়েছে, তারা বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাজা সংঘাতের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে বহু প্রতীক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ে বাস্তব অগ্রগতি না এলে আলোচনাটি ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au