ভাঙছে হৃদয়ের সেতু: গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আন্তরিকতা
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বাংলাদেশ মানে শুধু মানচিত্র না। বাংলাদেশ মানে গ্রাম। আর গ্রাম মানে একটা বড় পরিবার। শত শত বছর ধরে গ্রাম বাংলার রেওয়াজ ছিল-আত্মীয়…
মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের বক্তব্যকে ‘ভ্রমাত্মক বকাবকি’ আখ্যা দিয়ে নয়াদিল্লির প্রতিনিধি বলেন—যে দেশ নিজ জনগণকেই বোমা মারে, গণহত্যা চালায়, তাদের নারীর অধিকার বা শান্তি নিয়ে বলার নৈতিক অধিকার নেই।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। সোমবার (স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের কাশ্মীরবিষয়ক বক্তব্যের জবাবে ভারত ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পরবতনেনি হরিশ বলেন, “প্রতি বছর আমাদের দুর্ভাগ্য যে পাকিস্তানের ভ্রমাত্মক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য শুনতে হয়, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে—যা ভারতের অংশ। যে দেশ নিজ জনগণকেই বোমা মেরে হত্যা করে, পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালায়, তাদের নারীর অধিকার বা শান্তি নিয়ে বলার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।”
নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে জাতিসংঘের আলোচনায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি সায়মা সেলিম কাশ্মীর ইস্যু তোলেন। জবাবে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “এটি সেই দেশ, যারা ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নিজ দেশের ৪ লাখ নারী নাগরিকের ওপর গণধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটিয়েছে।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তানের মানবাধিকার রেকর্ড রক্ত ও নৃশংসতায় ভেজা। বিশ্ব এখন পাকিস্তানের প্রচারণা ভেদ করে সত্যটা বুঝে গেছে।”
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ দমন করতে চেয়েছিল। এতে ৩ লাখ থেকে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয় এবং লক্ষাধিক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
ভারত জাতিসংঘে এই ঘটনাগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে পাকিস্তানের ভণ্ডামি প্রকাশ করে বলে, দেশটি আজও অতিরঞ্জন ও বিভ্রান্তির মাধ্যমে নিজের বর্বর অতীত থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।
এ বৈঠকটি ছিল জাতিসংঘের ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ প্রস্তাব ১৩২৫-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে, যেখানে সংঘাতে নারীদের ওপর সহিংসতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের রেকর্ড কলঙ্কহীন। ভারত শুধু শান্তিরক্ষী অভিযানে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নারীর অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান নিয়মিতভাবে কাশ্মীর ইস্যু ব্যবহার করে নিজের অভ্যন্তরীণ দমননীতি ও সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার নজর এড়াতে চায়।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর নাম না করে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “যে দেশ রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দেয় এবং শিল্পায়িত মাত্রায় সন্ত্রাসের ঘাঁটি পরিচালনা করে, তারা একদিন নিজেদেরই ক্ষতির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বড় বড় সন্ত্রাসী হামলার সূত্র এক দেশেই গিয়ে মেলে। যারা এমন দেশকে প্রশ্রয় দেয়, শেষ পর্যন্ত তারাই এর ফল ভোগ করবে।”
সুত্রঃ দ্য ইকোনমিক টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au