কমছে করপোরেট কর, ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শর্তসাপেক্ষে…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
স্কয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৪ তারিখে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া, প্রোস্টেট ক্যানসার এবং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
শিল্পীর ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল মিয়া জানান, হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ প্রথমে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হবে। পরে ধানমন্ডির এক নম্বরে তাঁর নিজ বাসভবনে রাখা হবে। জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর বাবা ছিলেন খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফা। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা ও সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন এবং ছবি আঁকার কারণে কারাবরণও করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম নকশাকার। বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশুতোষ বিনোদনের জগতে তাঁর অবদান অনন্য। তিনি জনপ্রিয় চরিত্র ‘পারুল’-এর স্রষ্টা এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শিশুতোষ চরিত্র ‘মীনা’র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। তাঁর নির্মিত ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানও দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
চিত্রকলা, পাপেট, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে অসাধারণ অবদানের কারণে মুস্তাফা মনোয়ারকে অনেকেই ভালোবেসে ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ নামে অভিহিত করতেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au