মণিপুরে যৌথ অভিযানে দুই সশস্ত্র সদস্য নিহত, আহত দুই
মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির (ইউকেএনএ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে চলমান একটি স্থানীয় উৎসবের সময় জান্তার সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালায়, এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেক, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হামলাকে নির্দিষ্টভাবে শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর মিয়ানমারের করেন রাজ্যের একটি গ্রামে সোমবার দুপুরে হেলিকপ্টার এবং জেট বিমানের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় গ্রামের মানুষ উৎসব অনুষ্ঠান উদযাপন করছিল।
হামলাকার বিমানগুলো ঘরবাড়ি, বাজার এবং স্থানীয় মন্দির লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, অনেকেই হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন।
নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ৪০ জন।আহতদের মধ্যে বহু শিশু ও নারী রয়েছেন।স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলো ব্যস্ত রয়েছে এবং অনেককে আংশিকভাবে দূরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ ও তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেন, “নাগরিকদের ওপর এই বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি আদালত ভেঙে দেশজুড়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তার পর থেকে গ্রামে গ্রামে বিমান অভিযান, গ্রেনেড হামলা এবং নির্বিচার অভিযান চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে করেন, কাচিন এবং চিন রাজ্যে এসব অভিযানের ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক জান্তা উপদ্বীপের গ্রামগুলোতে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ দমন করতে এ ধরনের বিমান হামলা চালাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সামরিক জান্তার কাছে দ্রুত শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের মতে, সামরিক বাহিনী এখনো নির্দিষ্ট গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ, যার ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত ও অস্থির।
মিয়ানমারের করেন রাজ্যের এই বিমান হামলা নির্দিষ্টভাবে শান্তিপ্রিয় উৎসবমুখর মানুষদের ওপর চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি এক বড় সতর্ক সংকেত, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অসহায় নাগরিকদের ওপর নির্যাতন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
উত্তর মিয়ানমারের গ্রামগুলো এখন শোক ও ভয়ের পরিবেশে ডুবে রয়েছে, এবং সঠিক তদন্ত ছাড়া ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au