বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ…
মেলবোর্ন, ৯ অক্টোবর- ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন বলে তার দপ্তর বুধবার জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য আগাম সংসদ নির্বাচন চাওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু, যিনি দুই বছরের মধ্যে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সোমবার নিজের ও সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন, যা আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী প্রশাসন হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
তবে ম্যাক্রোর অনুরোধে লেকোর্নু রাজনৈতিক সংকট প্রশমনে কেন্দ্র-বাম থেকে কেন্দ্র-ডান দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যান।
এলিসি প্রেসিডেন্ট অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, “বেশিরভাগ সংসদ সদস্য সংসদ বিলুপ্তির বিরোধিতা করছেন। একটি স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট পাসের একটি পথও রয়েছে। এই ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।”
সংকট গভীর, কিন্তু আলোচনার সুযোগ রয়ে গেছে
লেকোর্নু পদত্যাগ করেন যখন বিরোধী দলসহ প্রেসিডেন্টের কিছু সহযোগীও তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকি দেন। বর্তমানে ফরাসি সংসদে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, ফলে বড় বড় ইস্যু—বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা—নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুই দিনের আলোচনা শেষে লেকোর্নু স্বীকার করেন, কোনো চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি, তবে তিনি মনে করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে সমঝোতার একটি পথ এখনো সম্ভব। তবে তা সহজ হবে না।”
লেকোর্নু জানান, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে এসেছে যে, “প্রেসিডেন্ট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারেন।”
পদত্যাগের দাবিতে চাপে ম্যাক্রো
সপ্তাহজুড়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচন বা নিজেই পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো। কট্টর ডান ও কট্টর বাম রাজনীতিকদের পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যেও একই দাবি উঠেছে।
ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের এমপি লর লাভালেত্তে বলেন, “ম্যাক্রো কেবল সময় কিনতে চাইছেন।”
দলটির নেতা মারিন লে পেন সরাসরি বলেন, “আমি কোনো সমঝোতার অংশ হব না। যথেষ্ট হয়েছে, এখন নির্বাচনের সময়।”
অন্যদিকে বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো আবারও বলেন, “সংকটের একমাত্র সমাধান হলো প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ।”
পরবর্তী সরকার গঠনে আগ্রহ বামজোটের
লেকোর্নুর সঙ্গে বৈঠকের পর সমাজতান্ত্রিক পার্টির নেতা অলিভিয়ের ফোরা ও গ্রীন পার্টির নেতা মারিন টনদোলিয়ে জানান, বামজোট পরবর্তী সরকার গঠন করতে চায়।
তাদের প্রস্তাবে রয়েছে—২০২৬ সালের বাজেটে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ০.০১ শতাংশ মানুষের ওপর ২ শতাংশ সম্পদকর আরোপ এবং বিতর্কিত পেনশন সংস্কার বাতিল। এই দুই দাবিই জনসমর্থন পেলেও রক্ষণশীল দলগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
অর্থবাজারে অস্থিরতা, সামান্য স্বস্তিও
রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ফরাসি অর্থবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীরা বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে বুধবার সকালে লেকোর্নুর সতর্ক আশাবাদের পর প্যারিসের সিএসি ৪০ সূচক ১.১ শতাংশ বেড়ে যায়।
তবে ইউরোপের তুলনায় ২০২৫ সালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স এখনো নিচের দিকে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au