বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, তিনি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান।
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশের পতাকা হাতে শহিদুল আলমের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুল আলমের মুক্তি ও ইসরায়েল থেকে দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
শহিদুল আলম ‘দৃক’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বহু বছর ধরে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছেন।
সম্প্রতি তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ ও গাজায় নৌ অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে গঠিত “ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন” নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নৌযাত্রায় অংশ নেন।
এই নৌযাত্রায় অংশ নেয় আরও একটি উদ্যোগ,“থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা” যার আটটি নৌযানসহ মোট নয়টি জাহাজের একটি বহর গাজা অভিমুখে রওনা দেয়।
বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা এ অভিযানে অংশ নেন। সেই দলের অন্যতম ছিলেন শহিদুল আলম।
গত বুধবার ইসরায়েলি নৌবাহিনী ওই নৌবহরে আক্রমণ চালিয়ে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে নিয়ে যায়। পরে শহিদুল আলমসহ আটক কর্মীদের ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে নেওয়া হয়।আটকের পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
কারামুক্ত হয়ে আজ শুক্রবার সকালে ইসরায়েল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন শহিদুল আলম।
ইস্তাম্বুলে স্বল্প বিশ্রামের পর তাঁর ঢাকাগামী যাত্রার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল অফিস।