কারাবাস থেকে আবারও গৃহবন্দী অং সান সু চি
মেলবোর্ন, ১ মে- মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই…
মেলবোর্ন, ১ মে- অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিস স্প্রিংস শহরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ঘিরে তীব্র সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গণপিটুনি দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে শত শত মানুষের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
বৃহস্পতিবার রাতের দিকে অ্যালিস স্প্রিংস হাসপাতালের বাইরে প্রায় ৪০০ মানুষ জড়ো হয়। হাসপাতালটি তখন দুই ডজনের বেশি পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তায় ছিল, যাদের কাছে ছিল মরিচের গুঁড়া স্প্রে। বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সহিংসতার মধ্যে একটি পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। শহরের পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চারটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নেই। ফলে জরুরি সেবার জন্য ডারউইন থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এক সংবাদকর্মীকেও এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে মরিচ স্প্রে করা হয়। পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে টেনে সরাতে দেখা যায়। এ সময় প্রসব ব্যথায় থাকা এক নারীকে হাসপাতালে প্রবেশ করাতে পুলিশকে বিশেষভাবে পথ পরিষ্কার করতে হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ বছর বয়সী কুমানজাই লিটল বেবিকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে জেফারসন লুইস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পুলিশ পাহারায় দ্রুতগতিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি অবনতি হলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে বিমানযোগে ডারউইনে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিন পলাতক থাকার পর লুইসকে আটক করা হয়। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পুলিশ কমিশনার মার্টিন ডোল জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে।

হাসপাতালটি তখন দুই ডজনের বেশি পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তায় ছিল। ছবিঃ এবিসি নিউজ
পুলিশ জানিয়েছে, লুইস চার্লস ক্রিক ক্যাম্প এলাকায় নিজে উপস্থিত হলে একদল স্থানীয় ব্যক্তি তাকে ধরে মারধর করে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ক্ষোভে চিৎকার করতে থাকেন। কেউ কেউ বলেন, “ওই নিষ্পাপ শিশু হত্যার বিচার চাই”, “ওই যে খুনি”, “ওকে বাঁচতে দিও না”। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্ট্রেচারে করে লুইসকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে, আর চারপাশের মানুষ “খুনি”, “ওই তার জীবন কেড়ে নিয়েছে” বলে চিৎকার করছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গণপিটুনি দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে শত শত মানুষের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। ছবিঃ নাইন নিউজ
হাসপাতালে নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বারবার পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্তকে বাইরে বের করে দিতে বলে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই সহিংসতায় অন্তত দুটি দোকান লুটপাট করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগানো হয়। এছাড়া দুটি গাড়ি চুরি করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দাঙ্গার কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশ নিশ্চিত করে, নিখোঁজ শিশু কুমানজাই লিটল বেবির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা ধারণা করছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শিশুটির পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা জেফারসন লুইসের সঙ্গে মিলে গেছে।
পুলিশের দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে অ্যালিস স্প্রিংসের ওল্ড টাইমার্স ক্যাম্প এলাকায় শিশুটিকে শেষবার দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে হাত ধরে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। অথচ তার আগে তাকে একটি ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
রবিবার ভোরে শিশুটিকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। এরপর টানা পাঁচ দিন অনুসন্ধান চালানোর পর বৃহস্পতিবার টড নদীর তীরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে আরেকটি স্থানে একটি কম্বল, লুইসের শার্ট এবং শিশুর অন্তর্বাস পাওয়া যায়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফরেনসিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং জানান, উদ্ধার হওয়া অন্তর্বাসে দুটি ডিএনএ পাওয়া গেছে। একটি শিশুটির এবং অন্যটি লুইসের।
এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা জাতির জন্য মর্মান্তিক এবং শিশুটির পরিবারের শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

নিহত শিশু শ্যারন গ্রানাইটস। ছবিঃ সংগৃহীত
শিশুটির মা এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে ভীষণভাবে মিস করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার সন্তান এখন স্বর্গে আছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান, যারা তাকে খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন।
এদিকে শিশুটির আত্মীয় ও নর্দান রিজিওনের এক সিনেটর, বলেন, এই ক্ষতি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গভীর আঘাত। তিনি বলেন, কোনো শিশুর এমন পরিণতি হওয়া উচিত নয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রীও শোক প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি মানুষের মধ্যে দেখা গেছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া শত শত স্বেচ্ছাসেবককে ধন্যবাদ জানান।
ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছে। ঘাসে ভরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তারা বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং ড্রোনের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সূত্রঃ The Australian
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au