মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর- জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আজ (১৭ অক্টোবর) শেষ মুহূর্তে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করে । মূলত আন্দোলনরত জুলাই বীরযোদ্ধা, শহীদ-পরিবার ও আহতদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে। সংশোধিত দফা-পূর্বের তুলনায়-আহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন, আইনগত দায়মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা-এর মতো অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা যোগ করেছে।
সংশোধনের আগে পঞ্চম দফায় মূলত বলা ছিল: গণঅভ্যুত্থান-পূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
আজ সংশোধিত ভাষায় এ দফায় যোগ করা হয়েছে আরও নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতাগুলো –
- আহতদেরকে ‘রাষ্ট্রীয় বীর/আহত জুলাই বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;
- শহীদ পরিবার ও আহত বীর-যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদানের প্রতিশ্রুতি;
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তাদের অন্তর্ভুক্ত ও বিচারের ব্যাপ্তি-সীমা সম্পর্কে বক্তব্য রাখা হয়েছে।
গতকাল থেকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা পরিচয়ে আসা কিছু গ্রুপ দাবি তুলেছিলেন যে, নথিতে তাঁদের দাবি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে নিয়মিত বিক্ষোভ ও শুক্রবার সকালে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি-অঙ্গীকার প্রক্রিয়ায় টানাপড়েন দেখা যায়; পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় চাপ আরো বেড়ে যায়। এই অবস্থায় কমিশন দ্রুত গতিতে পঞ্চম দফা সংশোধন করে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলি রীয়াজ এ কথা জানান।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে,এ সংশোধন political parties-দের সঙ্গে পরামর্শ ও আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে নেওয়া হয়েছে এবং কমিশন এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে।
কিছু ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ-পরিবারের প্রতিনিধিরা সংশোধনকে ইতিবাচক বলছেন,তারা মনে করেন, যোগ করা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে ধাপে ধাপে প্রদান হলে তাদের ন্যায্য দাবি অর্জিত হবে। অন্যদিকে আরও কিছু গ্রুপ বলছে, কেবল লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস পাওয়া যায় না; আইনগত সংস্কার ও বাস্তব কর্মসূচি দেখতে হবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও তাত্ক্ষণিক কার্যনির্বাহী মেকানিজম চাই। প্রাসঙ্গিক কিছুনেতা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এ দাবি তুলে ধরেছেন।
কমিশন বলেছে সংশোধিত পঞ্চম দফা বাস্তবায়নের জন্য তারা সরকারকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। তবে বাস্তবে কত দ্রুত এবং কী পরিসরে সরকারি নীতিতে এই প্রতিশ্রুতিগুলো রূপ নেবে তা সময়ই বলবে বিশেষত মসৃণ বাস্তবায়ন করতে অর্থায়ন, আইনগত পরিবর্তন ও প্রশাসনিক উদ্যোগ দরকার হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যদি বাস্তব প্রতিশ্রুতি না দেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন নতুন রূপে ফের-বিস্তৃত হতে পারে।
‘জুলাই শহীদ-পরিবার ও আহত’ পরিচয়ে সরকারি সভাস্থলের বাইরে বিক্ষোভ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন পঞ্চম দফা সংশোধন ঘোষণা; কমিশনের প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের প্রতি ভাষণ দেন। একই সঙ্গে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এবং সংসদ ভবনের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কিছু ঘটনা সংঘটিত হয়।
পঞ্চম দফায় করা আজকের শেষ মুহূর্তের সংশোধনটি মূলত আহতদের অধিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা-ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি জোরদার করেছে মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন, আইনগত দায়মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ। এটি আন্দোলনকারীদের আংশিক দাবি মানার মতো হলেও, বাস্তবায়ন ও সময়সীমা নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে; তাই রাজনৈতিক এবং সামাজিক মানচিত্রে এটি নতুন আলোচনার জাগ্রত বিষয় হয়ে থাকবে।