ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে অপ্রত্যাশিত রূপ নেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক আকস্মিক ফোনালাপে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফোনালাপের পর ট্রাম্প টমাহক সরবরাহে নিজের অনিচ্ছা বা সংশয় ব্যক্ত করেন এবং এতে কিয়েভের আশা ঝঞ্ঝাটে পড়েছে।
ক্রেমলিন বলেছে যে পুতিন ফোনালাপে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যদি যুক্তরাষ্ট্র জেলেনস্কিকে টমাহক দেয় তা U.S.-Russia সম্পর্ক “ভঙ্গ করবে” এবং সংকটকে তীব্র করবে। ট্রাম্প উভয়ের ফোনালাপে বিষয়টি “কিছুটা” নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পরে বলেছেন যে দেশের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তিনি টমাহক “শুধু তাই-ই দিতে পারবেন না” বা সরবরাহে সীমাবদ্ধতা রেখেছেন।
উক্রেনীয় নেতৃত্ব তাত্ক্ষণিকভাবে হতাশতা প্রকাশ করেছে জেলেনস্কি ও তার শীর্ষ দল আগেই মনে করছিলেন টমাহকিলে তাদের সামর্থ্য নাটকীয়ভাবে বাড়বে। জেলেনস্কি বলেছেন যে টমাহক নিয়ে আলোচনাই পুতিনকে ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যেকার উদ্যোগে ত্বরান্বিত করেছে এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিষয়গুলো আলোচনার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। ফোনালাপের পরে কিয়েভে অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প প্রেস পালে বলেছে যে আমেরিকার সশস্ত্র স্টকপাইলও গুরুত্বপূর্ণ “আমরা এসব (টমাহক) আমাদের দেশের জন্যও চাই” এমন মন্তব্য করে তিনি সরবরাহে নরম বা দ্বিচারী সঙ্কেত দেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে পুতিনকে বুঁঝিয়ে বলতে চান যুদ্ধের সমাধান চাইলে টমাহকগুলোই একটি প্রলোভন হিসেবে কাজ করবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দ্বৈত সুর কিয়েভের কৌশলগত পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
উপ-রাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসের কিছু সদস্য ফোনালাপের পরে সাবধানবাদী মন্তব্য করেছেন কেউ বলছেন টমাহক সরবরাহ করলে এটি রাশিয়া-মস্কোকে আমেরিকার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে ধাক্কা দেবে, আবার অনেকে কিয়েভকে শক্তিফল দানের তাগিদে জোর দিলেও শর্তবাৎকতা ও কন্ট্রোল (targeting conditions) থাকতে হবে। প্রশাসনের কিছু মধ্যম-মর্যাদার কর্মকর্তা বলেছেন যে মনে হচ্ছে সিদ্ধান্ত এখনও রাজনৈতিক পর্যায়ে ঝুলে আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি টমাহক সরবরাহ করা হয় এবং উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম (লঞ্চিং সিস্টেম) যোগ করা হয়, তাহলে ইউক্রেনকে রাশিয়ার আভ্যন্তরীন লজিস্টিকস ও এনার্জি লক্ষ্যবস্তুকে আরও দূর থেকে আঘাত করার ক্ষমতা দেবে কিন্তু আমেরিকা সম্ভবত কঠোর লক্ষ্য-নির্দেশনা ও ব্যবহার বিধি আরোপ করবে, যাতে হামলা ক্রমশ দখলকামী বা সংকট উসকে দিচ্ছে না তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, সরবরাহ করলে তা রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে বলে সতর্কতা রয়েছে।
টমাহক ইস্যুতে ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপের সূত্রে ট্রাম্প বাডাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে; এতে ইউক্রেনিয় প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নাও থাকতে পারে এমন আশংকা কিয়েভে দেখা দিয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে আইনী, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে (উদাহরণ: পুতিনের ওপরে ICC-এর গ্রেপ্তারের হুমকি)। এমন বৈঠু আলোচনার সিদ্ধান্তই ইউক্রেনকে কৌশলগত দিক থেকে বিচলিত করেছে।
ভাবফেরতির অর্থ কী হতে পারেঃ
- ইউক্রেনের সামরিক পরিকল্পনা: যদি টমাহক না মেলে, তাহলে কিয়েভকে অন্য দীর্ঘ-পরিসরের সমাধান বা অপ্রত্যক্ষ সহায়তার ওপর বাড়তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে।
- আঞ্চলিক উত্তাপ: রাশিয়া সরবরাহের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিলে উত্তেজনা তীব্র হতে পারে—বিশেষত এনার্জি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুর ওপর।
- কূটনৈতিক ঝুঁকি: ট্রাম্প-পুতিন আলাপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে নতুন কৌশলগত খালি-স্থান তৈরি হলে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় জটিল হতে পারে।
টমাহক ইস্যু এখন কেবল সামরিক সরবরাহের প্রশ্ন নয়; এটি কূটনৈতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রনেতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাব এবং মধ্যস্থতানীতি সবকিছুর মিলিত প্রতিফলন। ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পরে হঠাৎ ভেসে ওঠা সংশয় কিয়েভের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত ফেরাথিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক বার্তালাপ, বিশেষ করে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ও নীতিনির্ধারণী ঘোষণাই স্পষ্ট করবে টমাহক ইস্যুতে বাস্তবে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি