হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার রাত ১২টার পর থেকে বংশাল থানা ঘেরাও করে অবস্থান নিয়েছেন দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ অক্টোবর- পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ আহমেদ হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার রাত ১২টার পর থেকে বংশাল থানা ঘেরাও করে অবস্থান নিয়েছেন দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন, “আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে”, “রাস্তাঘাটে ছাত্র মরে, প্রশাসন কি করে?”
চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের মধ্যেই খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সোমবার থেকে ঢাকায় সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হবে। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “যদি খুনিদের আজই ধরা না হয়, আমরা রাজধানী অচল করে দেব।”
এর আগে রাত ১১টার দিকে নিহত জুবায়েদের প্রাইভেটছাত্রী বর্ষা আক্তারকে বংশালের নূর বক্স রোডের রৌশান ভিলা থেকে আটক করে পুলিশ। বর্ষা ছিলেন সেই বাসারই বাসিন্দা, যেখানে টিউশনিতে গিয়ে খুন হন জুবায়েদ। তাকে আটক করার সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। বাড়ির অন্য সদস্যদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে কয়েকটি টিম কাজ করছে। তিনি জানান, বর্ষা ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দ্রুত মূল আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নূর বক্স রোডের রৌশান ভিলায় টিউশনিতে গিয়ে সিঁড়িতেই ছুরিকাঘাতে খুন হন জুবায়েদ। আহত অবস্থায় তিনি দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে তৃতীয় তলায় লুটিয়ে পড়ে মারা যান। সিঁড়িজুড়ে রক্ত দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা তদন্ত চালিয়ে পুলিশ ও পিবিআই প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে।
নিহত জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন। সহপাঠীদের ভাষ্য, তিনি নিয়মিত টিউশনির জন্য ওই বাসায় যেতেন এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্ষাকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত পড়াতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যার পরও ভবনের কেউ কিছু জানাতে পারেনি, সিসিটিভিও ছিল না। পাশের ভবনের ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক দৌড়ে বের হয়ে যাচ্ছে, যদিও তাদের চেহারা স্পষ্ট নয়। এতে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, দুজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ছাত্রী বর্ষা ও তার প্রেমিকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে।
ঘটনাস্থল ও ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে রয়েছে।