মেলবোর্ন ২১ অক্টোবর- দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জেলা আদালত আজ (২০ অক্টোবর ২০২৫) একজন প্রাক্তন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে একটি আট বছর বয়সী ছাত্রী হত্যার দায়ে আজীবন কারাদণ্ড (life imprisonment) দিয়েছেন। মামলার আসামীর নাম জানা গেছে মিয়ং জে-ওন (Myeong Jae-wan); ঘটনার শিকার শিশুর নাম কিম হা-নেউল (Kim Ha-neul)।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ কোরিয়ার দায়েজন শহরের এক প্রাইমারি স্কুলে। মামলার অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, মিয়ং ওই দিন স্কুলে গিয়ে ছাত্রীকে কোনো অতিরিক্ত উদ্দীপনা ছাড়াই একটি অডিওভিজুয়াল রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঐ দিন একই স্থানে মিয়ং নিজেও কয়েকটি ধারালো আঘাত পেয়েছিলেন পরে তাঁর শরীরের কিছু কাটাছেঁড়া নিজহত বন্দিত্বের প্রচেষ্টার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। ঘটনায় পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেন।
প্রসিকিউশন আদালতে অভিযোগ করেছে, অপরাধটি পরিকল্পিত ছিল; মিয়ং হত্যার আগে একটি ছুরি কেনার তথ্যও পুলিশের কাছে এসেছে। প্রসিকিউটররা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটি আট বছরের কম হওয়া এবং অপহরণ/প্রলোভন দিয়ে হত্যা করার মতো গম্ভীর অনুক্রম থাকার কারণে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল; তবে আদালত প্রথম পর্যায়ের রায়ে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিচারকরা রায়ের সময় অপরাধের গুরুত্ব ও পুনরায় অপরাধের ঝুঁকি উল্লেখ করেছেন।
কিম পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন না; তাঁরা চেয়েছেন সবচেয়ে কড়া শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হোক। ঘটনাটি দেশজুড়ে শিশু-নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের কর্মী মনোস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন তোলেছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক পূর্ণতা যাচাই, মানসিক স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণ ও স্কুল নিরাপত্তা প্রটোকল শক্ত করা আবশ্যক।
আদালত life sentence (আজীবন কারাদণ্ড) ঘোষণা করে পাশাপাশি কিছূ শর্ত আরোপ করেছে রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্র্যাকিং ডিভাইস পরিধান করানোর আদেশও দেওয়া হতে পারে। মামলা প্রথম অপরাধ-রায়ে নিষ্পত্তি পেয়েছে; আসামী বা প্রসিকিউশন উভয়পক্ষই উচ্চ আদালতে আপিলের অধিকার রাখেন। প্রসিকিউশন পূর্বেও অভিযোগপত্রে নির্দেশ করেছিল যে যুক্তিবদ্ধ আইন অনুযায়ী এমন ধরনের গৃহীত অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত।
দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশু-নির্যাতন বা শিক্ষক-সম্পৃক্ত সহিংসতা ঘটলে তা জাতীয় মনস্তত্বে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে; সাম্প্রতিক এই কেসটি আবারও সমাজকে বাধ্য করেছে স্কুল নিরাপত্তা, শিক্ষক নিয়োগে মানসিক স্বাস্থ্য যাচাই, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উপস্থাপন করতে। রাষ্ট্রীয় এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষের এখন আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কর্মকাশলীর ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি