বৈঠকের পর এনসিপির নেতাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টারা। আজ বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
মেলবোর্ন, ২৩ অক্টোবর- প্রশাসনে বদলি–পদায়নে ‘ভাগ–বাঁটোয়ারা’ চলছে এবং উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেই এতে সহযোগিতা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসনে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে কি না তা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনের পদ, এসপি ও ডিসি পদে নিজেদের লোক বসানোর তালিকা দিচ্ছে এবং উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও কেউ কেউ তাতে সহযোগিতা করছেন। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এনসিপির দাবি, উপদেষ্টা পরিষদের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, অদক্ষতা কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য এটি জরুরি বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
গতকাল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে সরকারকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং সরকারে দলীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি তোলে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন এনসিপির নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জুলাই সনদের আওতায় পড়ে। কমিশনের আলোচনায় এ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। গণভোটের পরই কেবল এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভব। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করা রাজনৈতিকভাবে অসৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ পুরোপুরি পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তবে এর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে বিতর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, গণ–অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন। অন্য উপদেষ্টাদের মতো তাঁরাও সরকারের অংশ। তাই উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করতে হলে ছাত্র উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার ভূমিকা সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। এনসিপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারে যুক্ত সেসব নামও দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এনসিপি জানায়, শুধু সনদে স্বাক্ষর করলেই হবে না, এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে, যা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকেই হতে হবে।
এনসিপি নির্বাচন কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, কমিশনের গঠন ও আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে, কিছু দলের প্রতি পক্ষপাত এবং অন্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ দেখা যাচ্ছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন না করে, তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।
এ ছাড়া বিসিএস নন–ক্যাডার বিধিমালা, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্পর্কেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এনসিপি দাবি করে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
সুত্রঃ প্রথম আলো