মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছে। পশ্চিম তীর (ওয়েস্ট ব্যাংক) দখল বা আনেক্সেশনের পরিকল্পনা নিয়ে তারা ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে-
“ইসরায়েল যদি ভাবে যে আমরা বাইডেন প্রশাসনের মতো নরম, তবে সেটি হবে তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।”
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে ইসরায়েলি সংসদে যেভাবে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে,
“ইসরায়েল যদি আনেক্সেশনের পথে এগোয়, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন হারাবে।”প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন,
“এটি ঘটতে দেওয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্থাপন করেছি। সেই ভারসাম্য কেউ নষ্ট করতে পারবে না।”মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, এই উদ্যোগ গাজা যুদ্ধবিরতি, শান্তি প্রক্রিয়া ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর নেতৃত্বে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যাতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আইন প্রয়োগের কথা বলা হয়।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই “আনেক্সেশনের প্রথম ধাপ” বলে মনে করছেন।
তবে দেশটির অভ্যন্তরেও এ নিয়ে বিভক্ত মত দেখা গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের সংসদের এই উদ্যোগকে “খুবই বোকামি ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক চাল” বলে মন্তব্য করেছেন।
আরব দেশগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।ইউরোপীয় ইউনিয়নও একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর বার্তা মূলত ইসরায়েলকে “বাইডেন যুগের মার্কিন নীতি”র সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলতে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাটি শুধুই কূটনৈতিক নয় — এটি এক ধরনের ক্ষমতার সংকেত, যা ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি বাইডেন সরকারের মতো নমনীয় হবে না।
একইসঙ্গে এটি আরব দেশগুলোর কাছেও বার্তা পাঠাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য রক্ষার পথে আছে।
পশ্চিম তীরের আনেক্সেশন পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক অব্যাহত।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে –
“ইসরায়েল যদি মার্কিন নীতিকে দুর্বল ভেবে পদক্ষেপ নেয়, তবে সেটি হবে তাদের জন্য বড় কৌশলগত ভুল।”
সূত্র: রয়টার্স