২৭ অক্টোবর লাহোরে ঘন ধোঁয়ার মধ্যে স্কুলের বাচ্চারা রাস্তা পার হচ্ছে। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- পাকিস্তানের লাহোর শহর ঘন ও বিপজ্জনক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। আকাশ কাদা ঢেকে গেছে, সূর্যের আলো কেবল ধূসর ছায়া হিসেবে দৃশ্যমান, আর শহরের বাতাসে শ্বাস নেওয়াই মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধোঁয়া জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।
শহরের বায়ুদূষণ সোমবার সকালেই মারাত্মক মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স চারশিরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির সর্বোচ্চ সীমারও অনেক বেশি। বাতাসে ক্ষুদ্র ধূলিকণার ঘনত্ব নিরাপদ মাত্রার তুলনায় বিশাল মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়র আহমেদ তানভির বলেন, শহরের বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাজারগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, গলা ব্যথা এবং মাথাব্যথায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষও জানাচ্ছে, ধোঁয়ার কারণে বাইরে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহ স্মগের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রদেশজুড়ে ধান পোড়ানো, কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, শীতকালে বাতাসের কম গতি এবং ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দূষণ শহরের ঘন ধোঁয়ার মূল উৎস। পরিবেশবিদরা বলছেন, লাহোর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।
শ্বাসকষ্ট বিশেষজ্ঞ ডা. সামিয়া খান জানিয়েছেন, শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক। তিনি নাগরিকদের জানালার খোলা না রাখার, সকালে-বিকেলে বাইরে না যাওয়ার এবং প্রয়োজন হলে শ্বাসনালী রক্ষা করার জন্য মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
সরকার ক্ষতিকর ধোঁয়া কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় শিল্পাঞ্চলে অস্থায়ী উৎপাদন বন্ধ, ধূপকাঠ ও কয়লার ব্যবহার নিষিদ্ধ, রাস্তায় জল ছিটানো অভিযান এবং পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা শুরু করা হয়েছে। তবে পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং শিল্প নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ধোঁয়া সমস্যা অব্যাহত থাকবে।
শহরের এই ভয়াবহ ধোঁয়া কেবল দৃশ্যমানতা কমাচ্ছে না, বরং মানুষের ফুসফুসে বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দীর্ঘমেয়াদে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এটি আগামী প্রজন্মের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র : জিও টিভি