গ্যাভিন লার্কিনের মৃত্যু নিয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অ্যালি ল্যাংডন
সেরা বন্ধু গ্যাভিন লার্কিনের মৃত্যু এবং তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা একের পর এক শোকের স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন সাংবাদিক ও…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- গাজীপুরের টঙ্গী থেকে খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীকে অপহরণের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জিএমপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পুলিশের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, মুহিব্বুল্লাহ নিজেই শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে পঞ্চগড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে নিজেই নিজের হাতে শিকল বেঁধে অপহরণের নাটক সাজান। এ সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তদন্তে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, “তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা জানতে পারি, তিনি নিজে পঞ্চগড়ে গিয়েছিলেন। বাসের সুপারভাইজার এবং সহযাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদেও সেটি নিশ্চিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি পুলিশের কাছে সব স্বীকার করেছেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ। পরদিন সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সিতাগ্রাম হেলিপ্যাড এলাকার রাস্তার পাশে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের সময় তিনি নিজেই হেঁটে যাচ্ছিলেন, কোনো গাড়ি বা অপহরণের দৃশ্য দেখা যায়নি। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি টঙ্গী থেকে নিজের গাড়ি চালিয়ে সিরাজগঞ্জ হয়ে পঞ্চগড়ে যান। পরে সেখানে নিজে নিজের পায়ে শিকল বেঁধে ‘অপহৃত’ অবস্থার নাটক সাজান।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, শুধু ব্যথার অভিযোগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনার পর সোমবার রাতে টঙ্গী থানা পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, অপহরণের গল্পটি তিনি নিজেই বানিয়েছেন। পরে ইসলামপন্থি সংগঠনের নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “মুফতি সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন যে সবটা তার সাজানো নাটক। তিনি সবাইকে থানা ঘেরাওসহ সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, মুহিব্বুল্লাহর এই মিথ্যা অপহরণের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি ও সামাজিক অস্থিরতা ঘটানো। তার বিরুদ্ধে নিজে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au