চীনে বিদেশি জাহাজে আগুন, ২০ জনের মৃত্যু
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় কিংদাও বন্দরে নোঙর করা একটি বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার…
সেরা বন্ধু গ্যাভিন লার্কিনের মৃত্যু এবং তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা একের পর এক শোকের স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন সাংবাদিক ও A Current Affair-এর উপস্থাপক অ্যালি ল্যাংডন।
সম্প্রতি No Filter পডকাস্টে ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ৪৭ বছর বয়সী ল্যাংডন। সেখানে তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে তাঁর স্বামী মাইক উইলিসি জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গ্যাভিন লার্কিন একদিন তাঁকে ‘R U OK? Day’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
গ্যাভিন লার্কিনের বাবা আত্মহত্যা করেছিলেন। নিজের সন্তান হওয়ার পর বাবার সেই মৃত্যুকে নতুনভাবে উপলব্ধি করেন গ্যাভিন। এরপরই মানুষের মানসিক সংকট নিয়ে কথা বলা এবং বিপদে থাকা মানুষের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ল্যাংডন বলেন, গ্যাভিন তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি বন্ডাই বিচে ‘R U OK? Day’-এর উদ্বোধন করতে চান। এ জন্য Today অনুষ্ঠানের টিমকে সেখানে নিয়ে যেতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি।
তবে আত্মহত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয় সকালের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তুলে ধরা নিয়ে শুরুতে প্রযোজকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পরে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। মানুষের পাশে থাকা, একে অপরের খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরে ২০০৯ সালে Today অনুষ্ঠানে শুরু হয় উদ্যোগটির প্রচার।
এরপর থেকেই R U OK? Day-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ল্যাংডন। বর্তমানে এটি অস্ট্রেলিয়াজুড়ে মানুষের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলা এবং একে অপরের খোঁজ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু এই উদ্যোগ শুরুর মাত্র দুই বছর পর, ২০১১ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে নন-হজকিন লিম্ফোমায় মারা যান গ্যাভিন লার্কিন।
এরপর আরও বড় শোক নেমে আসে লার্কিন পরিবারে। গ্যাভিনের মৃত্যুর দুই বছর পর, তাঁর ১৪ বছর বয়সী ছেলে গাসও ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়।
বন্ধু গ্যাভিনের স্ত্রী মেরিয়ানকে নিয়ে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ল্যাংডন। তিনি বলেন, গ্যাভিনের সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল তাঁর স্ত্রীকে একা এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে জেনে।
“গ্যাভিন জানত, মেরিয়ানকে একাই সবকিছুর মোকাবিলা করতে হবে। সেটি ছিল অত্যন্ত নির্মম,” বলেন ল্যাংডন।
পরপর এই মৃত্যুগুলো ল্যাংডনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে মানুষের পাশে থাকার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন তিনি।

R U OK?-এর প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন লার্কিন ও তাঁর ছেলে গাস লার্কিন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম/ruokanyday
ল্যাংডনের ভাষায়, জীবনে পরের মুহূর্তে কী ঘটবে, তা কেউ জানে না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রিয় মানুষদের মূল্যায়ন করা এবং জীবনের পথ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, R U OK? Day তাঁকে নিয়মিত মানুষের খোঁজ নেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয়। কারও সঙ্গে একটু কথা বলা, তার খবর নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
“মানুষের খোঁজ নেওয়া, দয়ার গুরুত্ব বোঝা এবং একজন ভালো মানুষ ও ভালো বন্ধু হওয়ার কথা এটি মনে করিয়ে দেয়,” বলেন ল্যাংডন।
এদিকে, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পালিত হচ্ছে R U OK? Day। এবারের বার্তাও একই, কারও কথা মনে পড়লে অপেক্ষা না করে তার সঙ্গে কথা বলা এবং জিজ্ঞেস করা, ‘তুমি কি ঠিক আছ?’
সূত্র:নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au