গ্যাভিন লার্কিনের মৃত্যু নিয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অ্যালি ল্যাংডন
সেরা বন্ধু গ্যাভিন লার্কিনের মৃত্যু এবং তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা একের পর এক শোকের স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন সাংবাদিক ও…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- ২০১৬ সালের ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর শেখ হাসিনা সরকার জাকির নায়েকের ‘পিস টিভি’ সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, হামলায় জড়িত এক জঙ্গি বলেছিল যে, নায়েকেরউগ্র বক্তব্য থেকেই তারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
এখন সেই বাংলাদেশেই বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার জাকির নায়েককে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছে। এ ঘটনাকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মৌলবাদী প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ।
ইউনুস সরকার বাংলাদেশে নায়েকের এক মাসব্যাপী সফর অনুমোদন করেছে, যা শুরু হবে আগামী ২৮ নভেম্বর এবং শেষ হবে ২০ ডিসেম্বর। এই সময়ে নায়েক দেশজুড়ে সফর করবেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দেবেন।
জাকির নায়েক পরিচিত তার উগ্র বক্তব্যের জন্য। তিনি বারবার সহিংস ইসলাম প্রচার করেছেন এবং একাধিক জঙ্গি সংগঠনের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তার বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির একাধিক মামলা করেছে।

ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি. ছবিঃ আল জাজিরা
বাংলাদেশ সফর নায়েকেরজীবনের প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে গত বছর পাকিস্তানও তাকে অনুরূপ এক মাসব্যাপী সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়।
ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, নায়েক দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। ভারতে অবস্থানকালে তার এনজিওগুলোর মাধ্যমে তিনি একাধিক ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার নাম কেরালার জোরপূর্বক ধর্মান্তর মামলাগুলিতেও উঠে এসেছে, যা নিষিদ্ধ সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (পিএফআই)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন দেশটিতে উগ্রবাদ বাড়ছে বলে তারা বারবার সতর্ক করেছে। ইউনুস সরকার, যাদের ‘জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, তারা বহু জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ বিস্তারে সহায়তা করছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকেও বাংলাদেশে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নায়েকেরএ সফর পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি সফরকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে “সহিংস ইসলামের গুরুত্ব” নিয়ে বক্তৃতা দেবেন।
তার পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এবারও তিনি জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। পাকিস্তান সফরের সময় তিনি লস্কর-ই-তইবা’র শীর্ষ নেতা মুজাম্মিল ইকবাল হাশমি, মোহাম্মদ হারিস ধর এবং ফয়সাল নাদিমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরা সবাই ২০০৮ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত সন্ত্রাসী।
বাংলাদেশ সফরেও তার অনুরূপ পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি হরকত-উল-জিহাদি ইসলামী (হুজি) এবং জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
এই দুটি সংগঠনকেই আইএসআই ভারতবিরোধী হামলার জন্য ব্যবহার করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য বলছে। ইতিমধ্যেই লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের কয়েকজন কমান্ডারকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, হুজি ও জেএমবি সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য। নায়েকেরসফর এসব কার্যক্রমে আরও গতি যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে ঢাকার হামলার পরপরই জাকির নায়েক ভারত ত্যাগ করেন। হামলাকারীদের একজন জানিয়েছিল, ইউটিউবে নায়েকেরবক্তৃতা শুনে সে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। বর্তমানে নায়েক মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। যুক্তরাজ্য ও কানাডা তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তার ‘পিস টিভি’র মাধ্যমে তিনি সহিংস ইসলাম প্রচার করে চলেছেন। তিনি উর্দু ও বাংলা ভাষায়ও চ্যানেল চালু করেছেন। একসময় তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, “যদি বিন লাদেন ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তবে আমি তার পক্ষে। যদি সে আমেরিকাকে আতঙ্কিত করে, আমিও তার সঙ্গে আছি। প্রতিটি মুসলমানেরই সন্ত্রাসী হওয়া উচিত।” পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, তাকে ভুল উদ্ধৃত করা হয়েছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au