ঢাকা: কংক্রিটের দোজখ, মুক্তির রোডম্যাপ
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- এক. দীর্ঘশ্বাসের শহর পঁচিশ বছরের বেশি সময় আমি ঢাকায় বসবাস করেছি। একটা প্রজন্ম। এই শহর আমাকে রুটি দিয়েছে, পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু আজ যখন…
মেলবোর্ন, ৩০ অক্টোবর- চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে ঘিরে বিশ্ববাজারে আশাবাদ থাকলেও কৃষিপণ্য বাণিজ্যে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না পাওয়ায় শিকাগোর সয়াবিনের দাম কমে গেছে।
শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সবচেয়ে সক্রিয় সয়াবিন ফিউচার চুক্তির দাম স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ১.৩২ শতাংশ কমে প্রতি বুশেল ১০ দশমিক ৮ ডলারে নেমে আসে। এটি আগের ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের পরের সেশনেই পতন।
অস্ট্রেলীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এপিসোড থ্রি’র বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু হুইটলো বলেন, “এখানে আসলে তেমন কিছু নেই। বাজার একটি বাস্তবসম্মত চুক্তির প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তা খুবই অনিশ্চিত।”
বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন আমদানি আবার শুরু করবে, রেয়ার আর্থ রপ্তানি অব্যাহত রাখবে এবং অবৈধ ফেন্টানিল বাণিজ্য দমনে পদক্ষেপ নেবে, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৪৭ শতাংশে আনবে।
এশিয়া সফরের শেষ দিনে ট্রাম্প এই চুক্তিকে “অসাধারণ বৈঠক” বলে উল্লেখ করেন। সফরের সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্য অগ্রগতির দাবি করেন।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে, যা ১০০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে এবং রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ স্থগিত রাখতে সহায়ক হবে। ট্রাম্প বলেন, এই সফরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলার সময় পাননি।
তিনি বলেন, “আমরা কখনো কথা বলতে পারিনি, কারণ আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম এবং এই বৈঠকই ছিল সফরের মূল লক্ষ্য। সেই আলোচনায় সময় দিলে হয়তো এই বৈঠকের গুরুত্বকে অসম্মান করা হতো।”
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে বৈঠক হয়, কিন্তু পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়। সেপ্টেম্বরে কিম ট্রাম্পের প্রতি “স্মৃতিমধুর সম্পর্ক”ের কথা উল্লেখ করলেও আবারও স্পষ্ট করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে তিনি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়বেন না।
রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা
বিমানযাত্রায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করবে কিনা, তা অন্য দেশগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে। তবে তিনি নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে।
“আমি মনে করি, নিরস্ত্রীকরণ বা পরিস্থিতি শান্ত করা দারুণ একটা বিষয় হবে,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, এ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা চলছে এবং কিছু হলে চীনকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে ট্রাম্প বলেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেননি, তবে দেশ ছাড়ার সময় জানান, তাদের মধ্যে “খুব ভালো আলাপ” হয়েছে।
ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কিছু না জানালেও পরবর্তীতে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেন এবং অন্টারিও প্রদেশের এক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনকে কারণ দেখিয়ে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক ঘোষণা করেন।
পদে আসার পর থেকেই তিনি কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, যার পাল্টা জবাবে অটোয়া একই পদক্ষেপ নেয়।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প জানান, তার ও শির মধ্যে তাইওয়ান নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করলেও দ্বীপটি স্বাধীন প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে বাধ্য।
সম্প্রতি চীনের কয়েকটি এইচ-৬কে যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের কাছাকাছি উড়ে তথাকথিত “মুখোমুখি মহড়া” চালায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ও শি ইউক্রেন নিয়েও একসঙ্গে কাজ করবেন।
তবে এই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বাজারে আশাবাদী পরিবেশ থাকলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি হয়তো আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
গত ১১ জুন ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছিলেন, “আমাদের চীনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন, শুধু আমার ও প্রেসিডেন্ট শির চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি। সম্পর্ক দারুণ!”
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, চুক্তি হয়নি, সম্পর্কও ‘দারুণ’ ছিল না।
সবশেষে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিমানে ওঠার সময় তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে জনতার দিকে তাকিয়ে বলেন, “থ্যাঙ্ক ইউ।”
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au