ঢাকা: কংক্রিটের দোজখ, মুক্তির রোডম্যাপ
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- এক. দীর্ঘশ্বাসের শহর পঁচিশ বছরের বেশি সময় আমি ঢাকায় বসবাস করেছি। একটা প্রজন্ম। এই শহর আমাকে রুটি দিয়েছে, পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু আজ যখন…
মেলবোর্ন ৩০ অক্টোবর: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে দেশটি অবিলম্বে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার পুনরায় উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণে আমি ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’কে নির্দেশ দিয়েছি আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা সমান ভিত্তিতে পুনরায় শুরু করতে।”
এই ঘোষণা দেওয়া হয় তখন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য যাত্রা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ গোপন বা প্রকাশ্যভাবে কোনো নিক্ষেপযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৯২ সালে, অর্থাৎ গত ৩৩ বছর ধরে মার্কিন নীতি পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে বিরত ছিল।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বলছেন, “আমাদের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে” এবং তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে আজ পুনরায় পরীক্ষা শুরু করাই প্রয়োজন।
রাশিয়া সম্প্রতি পারমাণবিক চালিত ক্ষেপণযন্ত্র ও টরপেডো পরীক্ষার কথা ঘোষণা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে।চীনের পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে -বিশেষজ্ঞ estimate দিচ্ছেন, আগামী কয়েক বছরে চীনের যুদ্ধাস্ত্র সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বেচ্ছা মোরেটোরিয়ামে ছিল পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা‑নিষেধের অংশ হিসেবে। ১৯৯৬ সালে সই করা Comprehensive Nuclear‑Test‑Ban Treaty (CTBT) এখনও কার্যকর হয়নি মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের অভাবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক সুরক্ষা পরিবেশে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তা হল:পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করলে বিভিন্ন দেশ পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিজেদের পরীক্ষা বা উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হতে পারে।এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র‑রুশিয়া‑চীন ত্রিভুজে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, বিশেষ করে বাণিজ্য সংলাপ বা সামরিক সংযুক্তিতে।
পারমাণবিক পরীক্ষা বর্তমানে নির্বিশেষে দুই ধরনের হয়: এক হলো বিস্ফোরণমূলক (যেটি সাধারণত ভূ‑গর্ত বা উন্মুক্ত এলাকা থেকে হয়) এবং দ্বিতীয় হলো উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণযন্ত্র বা সাবক্রিটিক্যাল পরীক্ষণ। ট্রাম্পের ঘোষণায় এখনও স্পষ্ট নয় কোন ধরনের পরীক্ষা প্রথমে চালু হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “যুদ্ধবিধ্বস্ত বা উত্তেজিত পরিবেশে ফের পারমাণবিক পরীক্ষা” বিশ্বকে আবার হিমশীতল যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এই নির্দেশ মার্কিন পারমাণবিক নীতিতে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূচনা যা ৩৩ বছর ধরে স্থিত ছিল। তবে এটি বহুবিধ ঝুঁকি ও প্রতিক্রিয়াও সঙ্গে আনছে , বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এখন দেখার বিষয়, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই পরীক্ষা বাস্তবায়ন করবে এবং বিশ্ব প্রতিক্রিয়ায় কেমন কৌশল অবলম্বন করবে।
সুত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au