মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) চীনের ওপর বিরল খনিজ সম্পদের নির্ভরতা দ্রুত কমাতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চীন এখন এসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের রপ্তানি সীমিত করছে, যা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
বুধবার ব্রাসেলসে এক শিল্প সম্মেলনে বক্তৃতাকালে ভন ডার লেন বলেন,
“আমরা অতীতে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিলাম, এবং তার ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়েছে। এবার আমরা একই ভুল চীনের সঙ্গে করতে পারি না।”
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন “ক্রিটিক্যাল র’ ম্যাটেরিয়াল অ্যাক্ট” বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজস্ব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
চীন বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে- যা ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যা পশ্চিমা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক “ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরতার ফাঁদে” আটকে আছে, যেখান থেকে বের হতে হলে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করতে হবে।
ভন ডার লেন বলেন, ইউরোপীয় কমিশন আগামী বছর থেকে খনিজ অনুসন্ধান, পুনর্ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদনের জন্য ১০ বিলিয়ন ইউরোর নতুন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন,
“পরিষ্কার শক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা এখন কত দ্রুত কৌশলগত খনিজের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হতে পারি তার ওপর।”
বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপ এখন তার জ্বালানি ও প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। ভন ডার লেনের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় খনিজ নির্ভরতা কমানো এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য সিদ্ধান্ত।
সূত্র : ডয়চে ভেলে