মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন তার সামরিক কৌশলে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অঞ্চলকে যুক্ত করেছে , ফিলিপাইনের উত্তরের ছোট দ্বীপমালা ‘বাতানেস’ (Batanes Islands)। এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে চীনের নৌবাহিনীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাসরোধ করার নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ওয়াশিংটন।
বাতানেস দ্বীপপুঞ্জ ফিলিপাইনের একেবারে উত্তর প্রান্তে, আর তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২০০ কিলোমিটারেরও কম। ভূরাজনৈতিকভাবে এই এলাকা এমন এক ‘চোক পয়েন্ট’, যা দিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের একমাত্র সহজ পথ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অঞ্চলকে সামরিকভাবে ব্যবহার করা গেলে চীনের নৌ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ফিলিপাইন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের Enhanced Defense Cooperation Agreement (EDCA) অনুযায়ী আরও কিছু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যার মধ্যে বাতানেসও অন্যতম বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে সেখানে রানওয়ে, সামরিক অবকাঠামো এবং নজরদারি ঘাঁটি তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন।
চীন এই পদক্ষেপকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “এ ধরনের সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।” চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে তাদের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বাতানেস দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন উপস্থিতি তাইওয়ান প্রণালীতে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলে, তবে তা চীনের প্রতিক্রিয়া উস্কে দেবে এবং পুরো অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।
বাতানেস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ দ্বীপ এখন পরিণত হতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারির ঘাঁটিতে। স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, দ্বীপবাসী নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।