শিক্ষা

১৫ নভেম্বরের পর আন্দোলনে যাবে প্রাথমিক শিক্ষকরা

  • 3:17 pm - November 02, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৬২ বার
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অন্যতম ১১তম গ্রেডে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন আবারও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে নামবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই ঘোষণা দেন।
তাদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মপরিধি ও দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অন্য পেশাজীবীদের তুলনায় এখনো অনেক কম।
তারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে বিলম্বিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,
“প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভিত্তি। অথচ যারা সেই ভিত্তি গড়ে তোলেন, সেই শিক্ষকরা অবহেলিত।
আমরা অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু আর নয়- ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন,
শিক্ষকদের দাবি শুধু গ্রেড উন্নয়ন নয়, বরং সম্মানজনক জীবনযাপন ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই।

সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, যা শিক্ষকদের দায়িত্বের তুলনায় অনেক কম।
তাদের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

প্রাথমিক শিক্ষকদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে –

সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি,হেড টিচার পদে স্বচ্ছ নিয়োগ ও পদোন্নতি,বেতন বৈষম্য দূরীকরণ,সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও ভাতা বৃদ্ধি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছেন,
তবে আর দেরি হলে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতিসহ দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন,
“আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবি করছি না। আমাদের দাবি পেশাগত ও যৌক্তিক।
যদি সরকার শিক্ষক সমাজের এই ন্যায্য দাবি পূরণে উদাসীন থাকে,
তাহলে দায় সরকারেরই থাকবে।”

তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন,
যারা ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে নিরাপদ ও সম্মানিত না হন,
তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার মান টেকসই করা সম্ভব নয়।

শিক্ষকদের এক নেতার ভাষায়-
“আমরা স্কুলে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিই,
কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিদিন অনিশ্চয়তায় থাকি।
এবার সময় এসেছে, সরকার আমাদের কণ্ঠস্বর শোনার।”

 

এই শাখার আরও খবর

বাংলাদেশের ‘জুলাই শহীদ’ গেজেটে অনিয়ম, বাখের আলী ‘কবির’ হলেন যেভাবে

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই:  বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত ‘জুলাই শহীদ’ গেজেট নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত অনানুষ্ঠানিক জোট MARK&AUA।…

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি, তদন্ত চলছে

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: ইরানের হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। বুধবার…

ইংল্যান্ডে বাড়ছে কম বয়সী নারীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: ইংল্যান্ডে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা। তাদের মতে,…

অনশন ভাঙতে যে শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এমন স্পষ্ট নিশ্চয়তা পেলেই অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন…

কেট রানী হলে তাকে প্রণাম করতে হবে মেগানকে, দাবি রাজপরিবার বিশেষজ্ঞের

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য মেগান মার্কেল ও তার ননদ প্রিন্সেস ক্যাথরিনের দীর্ঘ দিনের শীতল সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও তিক্ত হতে পারে বলে দাবি…

শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কি সত্যিই মস্তিষ্কের ক্ষতি করে? গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র

মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ভিডিও গেম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au