ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…
মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অন্যতম ১১তম গ্রেডে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন আবারও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে নামবে।
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই ঘোষণা দেন।
তাদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মপরিধি ও দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অন্য পেশাজীবীদের তুলনায় এখনো অনেক কম।
তারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে বিলম্বিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,
“প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভিত্তি। অথচ যারা সেই ভিত্তি গড়ে তোলেন, সেই শিক্ষকরা অবহেলিত।
আমরা অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু আর নয়- ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন,
শিক্ষকদের দাবি শুধু গ্রেড উন্নয়ন নয়, বরং সম্মানজনক জীবনযাপন ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, যা শিক্ষকদের দায়িত্বের তুলনায় অনেক কম।
তাদের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
প্রাথমিক শিক্ষকদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে –
সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি,হেড টিচার পদে স্বচ্ছ নিয়োগ ও পদোন্নতি,বেতন বৈষম্য দূরীকরণ,সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও ভাতা বৃদ্ধি।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছেন,
তবে আর দেরি হলে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতিসহ দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন,
“আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবি করছি না। আমাদের দাবি পেশাগত ও যৌক্তিক।
যদি সরকার শিক্ষক সমাজের এই ন্যায্য দাবি পূরণে উদাসীন থাকে,
তাহলে দায় সরকারেরই থাকবে।”
তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন,
যারা ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে নিরাপদ ও সম্মানিত না হন,
তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার মান টেকসই করা সম্ভব নয়।
শিক্ষকদের এক নেতার ভাষায়-
“আমরা স্কুলে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিই,
কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিদিন অনিশ্চয়তায় থাকি।
এবার সময় এসেছে, সরকার আমাদের কণ্ঠস্বর শোনার।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au