‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-র বাংলাদেশে চলমান “ব্যালট প্রজেক্ট” সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার (১ নভেম্বর ২০২৫) দলটি ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. স্টেফান লিলার বরাবর একটি বিশদ চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, এ প্রকল্পটি জাতিসংঘ সনদ ও ইউএনডিপি’র নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকারের মূলনীতি লঙ্ঘন করছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানায় চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার জন্য লড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। গত ৭৬ বছরে দলটি ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভাবনীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জন করেছে।
তবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। হাজারো রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিককে আটক বা হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংলাপ বা ঐকমত্যের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ইউএনডিপি’র ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
চিঠিতে বলা হয়, ইউএনডিপি যে নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প “ব্যালট প্রজেক্ট (২০২৫–২০২৭)” হাতে নিয়েছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের নিরপেক্ষতার নীতিকে লঙ্ঘন করছে। প্রকল্পটির আওতায় ১৮ কোটি ডলার (প্রায় ২১৮৬ কোটি টাকা) ব্যয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ইউএনডিপি নিজেই দিচ্ছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
আওয়ামী লীগের দাবি, এই প্রকল্পটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা রাখছে এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে (আওয়ামী লীগ) বাদ দিয়ে একটি একপাক্ষিক নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা দিচ্ছে। এতে ইউএনডিপি তার নিরপেক্ষতা ও মানবাধিকার নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।
রাজনৈতিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ ও এর হাজারো নেতা-কর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেপ্তার ও আটক করা হচ্ছে। কেবল ফেব্রুয়ারির “অপারেশন ডেভিল হান্ট”-এই ১১ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। মোট আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, সংসদ সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও আছেন।
আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, এসব গ্রেপ্তার আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দলটির দাবি, রাজনৈতিক মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
চিঠিতে বলা হয়, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানবহির্ভূত। ২০১১ সালে গৃহীত সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়াই ক্ষমতা পরিচালনা করছে।
এছাড়া এই সরকার নির্বাচনী আইন (আরপিও) সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা তাদের আইনি ক্ষমতার বাইরে। বিশেষ করে নতুন আইনে ছোট দলগুলোর জোট রাজনীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং “ফেরারি আসামি”দের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারযোগ্য বলে আওয়ামী লীগ মনে করছে।
ব্যালট প্রকল্প স্থগিতের দাবি
চিঠিতে আওয়ামী লীগ ইউএনডিপির কাছে ৫ দফা পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে:
চিঠিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ যেন বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক আটকাবস্থার বিষয়ে তদন্ত করে এবং “জাতিসংঘের ইচ্ছাধীন আটক বিষয়ক কার্যদল”-এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে।
চিঠির শেষাংশে বলা হয়, ইউএনডিপি যদি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার সহায়তা অব্যাহত রাখে, তবে তা গণতন্ত্রের প্রসার নয় বরং তার দমনকে বৈধতা দেবে। আওয়ামী লীগ বলেছে, “জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী নিরপেক্ষতা, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মান রক্ষা না করলে ইউএনডিপির এই ভূমিকা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হবে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au