মেলবোর্ন, ৬ নভেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই নাসার প্রধান হিসেবে স্পেসএক্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বাণিজ্যিক নভোচারী জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে মনোনীত করেছেন। সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় এ মনোনয়নের কথা জানানো হয়।
আইজ্যাকম্যান একজন বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা, পাইলট এবং স্পেসএক্সের বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশন ইনস্পিরেশন৪-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি এলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জ্যারেড আইজ্যাকম্যান যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা ও বেসরকারি উদ্ভাবনের সংযোগকে আরও জোরদার করবেন। তাঁর নেতৃত্বে নাসা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে।”
ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইজ্যাকম্যানের প্রশংসা করে বলেন, “জ্যারেড এমন একজন, যিনি আমেরিকাকে আবার মহাকাশে প্রথমে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তিনি একজন বিজয়ী, এবং আমি তাঁকে নাসার নেতৃত্বে দেখতে পেরে আনন্দিত।”
আইজ্যাকম্যানের মনোনয়নকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞান মহলের একাংশ বলছে, তাঁর মহাকাশ বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী নন। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এতে নাসার কার্যক্রম আরও বেশি বেসরকারি খাতে নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁরা মনোনয়ন শুনানিতে আইজ্যাকম্যানের যোগ্যতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন তুলবেন। এক সিনেটর বলেন, “নাসা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জাতির বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যৎ। তাই আমরা চাই, এর নেতৃত্ব বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বচ্ছ হোক।”
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে “দূরদর্শী পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, নাসার পরবর্তী লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি ও মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি বাস্তবায়নে আইজ্যাকম্যানের অভিজ্ঞতা ও স্পেসএক্সের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখবে।
জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বর্তমানে শিফট৪ পেমেন্টস নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও। ২০২১ সালে তিনি পৃথিবীর কক্ষপথে উড়ে যাওয়া প্রথম বেসামরিক মহাকাশ মিশনের কমান্ডার হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন।
আইজ্যাকম্যান যদি সিনেটের অনুমোদন পান, তবে তিনি হবেন নাসার ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি পেশাদার বিজ্ঞানী না হয়েও সংস্থাটির নেতৃত্বে আসবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সেই কৌশলেরই অংশ, যার মাধ্যমে তারা সরকারি সংস্থাগুলোতে “উদ্যোক্তা ও বাস্তবায়নমুখী নেতৃত্ব” প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।