পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। ছবিঃ ডন
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- সীমান্তে নতুন সংঘর্ষের পর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ী করছে।
গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আফগান তালেবান ২০২১ সালের দোহা চুক্তি অনুযায়ী সন্ত্রাস দমন ও শান্তি রক্ষার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আসিম মালিক, আর আফগান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন গোয়েন্দা প্রধান আবদুল হক ওয়াসিক। দুই দেশের আলোচনায় তুরস্ক ও কাতার মধ্যস্থতা করছে।
এর আগে আফগান কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, যৌথ বৈঠকের মধ্যেও সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলিতে চারজন আফগান নাগরিক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোল্ডাক শহরের সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল দাবি করেন, প্রথম গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান বলছে, উল্টো আফগান বাহিনীই হামলা শুরু করেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানান, ইসলামাবাদ আফগান জনগণের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে, তবে নিজেদের নাগরিক ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর মতো গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে বিভিন্ন হামলা চালাচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, গত ৯ অক্টোবর থেকে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৫০ আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে তুরস্ক জানিয়েছিল, দুই দেশ শান্তি বজায় রাখতে এবং যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায়ীদের শাস্তি দিতে একটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই ব্যবস্থা গঠনে সম্মত হয়েছে। কিন্তু নতুন সংঘর্ষে সেই উদ্যোগ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা