চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালিদের অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপূজার পর বিজয়া দশমীকে ঘিরে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ বিনিময়ের উৎসব “বিজয়া সম্মিলন” এবার চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ২৪টি সংগঠনের উদ্যোগে এই বিশাল আয়োজনের আসর বসে শহরতলির ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে।
সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনোরিটিস ইন বাংলাদেশ’ (AFERMB)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বাঙালি সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ, প্রাদেশিক ও ফেডারেল পর্যায়ের কয়েকজন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মিডিয়া প্রতিনিধি ও অতিথিরা।
পুরো আয়োজনের অফিশিয়াল মিডিয়া পার্টনার ছিল ওটিএন বাংলা (OTN Bangla)। তারা উৎসবের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কাভারেজ, সাক্ষাৎকার, ফটো ও নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্য ও সংস্কৃতি পরিবেশনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করে তারা সিডনিসহ বিশ্বব্যাপী দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “অশুভের বিনাশ হোক, শুচি হোক বিশ্বলোক।” শান্তি, মঙ্গল ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এই আহ্বানই ছিল মূল বার্তা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টায়, শুভ্রা সাহার সঞ্চালনায়। উৎসবের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সন্ধ্যা রানী, যিনি বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভক্ত ও সমাজকর্মী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মা। কান্ট্রি অ্যাকনলেজমেন্ট, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং পরমেশ ভট্টাচার্য ও অপু সাহার নেতৃত্বে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের আওয়াজ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনমেলা।
নতুন প্রজন্মের শিশুদের অংশগ্রহণে পাঠ করা হয় পবিত্র গীতা, এরপর রাধা কৃষ্ণ গৌড়ীয় মন্দিরের শিশুদের সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা হয়। অনুষ্ঠানমঞ্চে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ওপর নির্মিত আকাশ দে-র একটি প্রামাণ্য ভিডিও, যা দেখে উপস্থিতরা স্তব্ধ হয়ে যান। আনন্দঘন পরিবেশে এই ভিডিও কিছু সময়ের জন্য বিষাদের ছায়া ফেললেও স্বদেশের বাস্তবতা দেখে প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পূজা কমিটির প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠক, ব্যবসায়ী ও সিডনির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসী বাঙালি পরিবার। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
এ সময় উপস্থিত সকল সংগঠনের প্রতিনিধিরা একে একে মঞ্চে উঠে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঐক্য অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এএফইআরএমবি-র সভাপতি সুরজিৎ রায় বলেন, “অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রবাসে থেকেও আমরা মানবতার পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে।” তাঁর এই আহ্বান করতালিতে মুখরিত করে তোলে সভাকক্ষ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল এমপি অ্যাস অ্যাম্বিহাইপার, হিউজের ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, হিন্দু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল সেক্রেটারি শোভা দেশিকান এবং চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস ইন্ডিজিনিয়াস জুম্মা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য কবিতা চাকমা। তাঁরা বিজয়া সম্মিলন ও দীপাবলির মতো উদ্যোগকে বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়ন বন্ধ করে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাঁরা এএফইআরএমবি-র এই উদ্যোগকে মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী শিথি সাহা তাঁর অসাধারণ কণ্ঠে একাধিক সংগীত পরিবেশন করেন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানে ডেভিড মনক্রিফ এমপির হাতে ‘গ্লোবাল লেন্স’ নামে এএফইআরএমবি-র একটি নতুন প্রকাশনার প্রথম সংখ্যা তুলে দেওয়া হয়। প্রকাশনাটির সম্পাদকমণ্ডলী জানান, এর লক্ষ্য মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অন্যায় ও সহিংসতার ঘটনাগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।
দ্বিতীয় পর্বে হিমেল ও শাওলি ভৌমিকের সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপিত হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় ছিল স্তোত্রপাঠ, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত। শেষপর্যায়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা মঞ্চে উঠে প্রাণবন্ত পরিবেশনায় সবাইকে মুগ্ধ করেন। তাঁর গানে-গানে পুরো মিলনমেলা পরিণত হয় এক উচ্ছল উৎসবে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিগণ। ছবিঃ ওটিএন বাংলা

অনুষ্ঠানের শেষে এএফইআরএমবি-র চেয়ারপার্সন ড. সমীর সরকার সকল অংশগ্রহণকারী, স্পন্সর, অতিথি ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান।
এটি কেবল বাঙালিদের নয়, অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের এক বর্ণিল ও মানবিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। চতুর্থবারের এই বিজয়া সম্মিলন তাই হয়ে উঠেছে প্রকৃত অর্থেই এক “মহাসম্মিলন” অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির, বিভেদের বিরুদ্ধে ঐক্যের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au