রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- গাজায় এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন করে উদ্ধার হওয়া লাশের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (৮ নভেম্বর) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ১৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নতুনভাবে উদ্ধার ও শনাক্ত হওয়া লাশের কারণে এ সংখ্যা বেড়েছে। শুধু যুদ্ধবিরতির পর গত এক মাসেই অন্তত ২৪০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে শনিবারও নতুন করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের অবস্থানরত সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়া এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে, যিনি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই সীমারেখা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটার কথা ছিল। সেনারা আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায়ও সীমারেখা অতিক্রম করা আরেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তিনি নাকি সৈন্যদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” সৃষ্টি করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ওই সীমারেখার কাছে আসা পরিবারগুলোর ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালাচ্ছে। খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া বিস্ফোরকের কারণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নেওয়া যায়। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন, তবে আরও ১৬ হাজার ৫০০ জন এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব হামলার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা। শনিবার দক্ষিণ নাবলুসের বেইতা শহরে জলপাই সংগ্রহে ব্যস্ত গ্রামবাসী, কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা লাঠি ও বড় পাথর নিয়ে হামলা চালায়।
ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী জোনাথন পোলাক আল জাজিরাকে জানান, “ডজনখানেক মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী পাহাড় থেকে নেমে আমাদের দিকে বিশাল পাথর ছুড়তে থাকে, আমরা পালাতে বাধ্য হই।”
এই হামলায় অন্তত ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ৭০ বছর বয়সী কর্মী এবং এক সাংবাদিকও রয়েছেন। প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট জানিয়েছে, পাঁচ সাংবাদিক রানিন সাওয়াফতে, মোহাম্মদ আল-আত্রাশ, লুয়াই সাঈদ, নাসের ইশতাইয়েহ ও নাঈল বুয়াইতেল আহত হয়েছেন। সংস্থাটি এই হামলাকে “সাংবাদিক হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে, তাদের দুই কর্মী এক সাংবাদিক ও তার নিরাপত্তা পরামর্শক হামলায় আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম তীরের অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে ১২৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ৪ হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস বা উপড়ে ফেলা হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও ঐতিহ্য দুটিকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে এ সহিংসতার ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজেই রয়ে গেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au