সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কায় গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভেনেজুয়েলা

  • 1:52 pm - November 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৬৫ বার
ভেনেজুয়েলার জাতীয় মিলিশিয়ার সদস্যদের হাতে দেশটির জাতীয় পতাকা।ছবি: রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় এখন গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে। সরকারি নির্দেশনা, সামরিক পরিকল্পনা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশটি একটি “প্রলম্বিত প্রতিরোধ যুদ্ধ” বা গেরিলা-ধাঁচের প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণের পথে হাঁটছে।

দেশটির সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে রাজধানী কারাকাসসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট যুদ্ধ ইউনিট গঠন শুরু করেছে। এসব ইউনিট স্থানীয় জনগণ ও নাগরিক মিলিশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ছদ্মবেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, যেখানে শত্রুপক্ষ আক্রমণ করলে শহর ও গ্রামীণ উভয় অঞ্চলে একযোগে পাল্টা আঘাত হানা যাবে।

সরকারের এই পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা চাপ ও সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধিই ভেনেজুয়েলাকে এই বিকল্প পথে যেতে বাধ্য করেছে। ওয়াশিংটন সম্প্রতি ক্যারিবীয় সাগর ও দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা সরকার “প্ররোচনামূলক” বলে দাবি করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সাম্প্রতিক এক ভাষণে বলেন, “আমরা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করব। শত্রু যদি আমাদের আক্রমণ করে, তবে আমরা শুধু সৈন্য নয়, পুরো জাতিকেই প্রতিরোধে নামাব।” তিনি আরও জানান, দেশব্যাপী প্রায় ৫০ লাখ নাগরিক-মিলিশিয়াকে সক্রিয় করা হচ্ছে এবং তাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার সামরিক নেতৃত্ব “প্রতিরোধের নতুন কাঠামো” শীর্ষক একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে উল্লেখ আছে যদি সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, তবে সরকার ও সেনাবাহিনী শহর, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং যোগাযোগব্যবস্থায় ছোট ছোট দলে ছড়িয়ে গিয়ে শত্রুর অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে। এই পরিকল্পনায় সাইবার প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বিঘ্নিত করার কৌশলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে বাস্তবে এই প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের সামরিক সরঞ্জাম ঘাটতি এর অন্যতম কারণ। বহু অস্ত্রই সোভিয়েত যুগের পুরনো, এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, রুশ ও ইরানি সহায়তা কিছুটা থাকলেও তা পূর্ণমাত্রায় কার্যকর নয়। ফলে সরকার এখন এমন এক যুদ্ধকৌশল বেছে নিচ্ছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

সামরিক মহলে “দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ” নামের এই কৌশলকে আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শহরাঞ্চলে সম্ভাব্য গেরিলা হামলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলছে। সেখানে তরুণ মিলিশিয়াদের অস্ত্রচালনা, নগর প্রতিরক্ষা, এবং খাদ্য ও জ্বালানি সংগ্রহের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

এটি এক ধরনের “রাষ্ট্রীয় গেরিলা যুদ্ধের রূপায়ণ”-যা সাধারণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মতো নয়, বরং সরকারের আনুষ্ঠানিক সামরিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের কৌশল একদিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে, কিন্তু অন্যদিকে তা দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ভেনেজুয়েলার এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও ব্রাজিল ইতিমধ্যে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে, যাতে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব তাদের ভূখণ্ডে না পড়ে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তুতিকে “রাজনৈতিক নাটক” বলে মন্তব্য করেছে। ওয়াশিংটনের এক মুখপাত্র বলেছেন, “ভেনেজুয়েলার সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নতুন শত্রু সৃষ্টি করছে। আমাদের কোনো সামরিক পরিকল্পনা নেই, তবে আমরা গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছি।”

কারাকাসে সরকারপন্থী জনসমর্থনমুখী প্রচারণা তীব্র হচ্ছে। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে “দেশরক্ষার ডাক” নামে প্রচার চালানো হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে “জনযোদ্ধা” হিসেবে প্রস্তুত হতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি একদিকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তা যে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের জবাব দিতে ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই সামরিক উত্তেজনা মূলত অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনগণের মনোযোগ সরানোর কৌশল।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে,যেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাস্তবের চেয়ে প্রতীকী হলেও, তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সুত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা? অর্থ কারা দিচ্ছে?

মেলবোর্ন, ২৬ জুন- ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে।…

ওয়ান নেশনের উত্থান নিয়ে সতর্কবার্তা, অস্ট্রেলিয়ানদের ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান

মেলবোর্ন, ২৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির গ্রিনস দলের সিনেটর পিট হুইশ-উইলসন। তিনি অভিযোগ করেছেন,…

অস্ট্রেলিয়ায় আরও কঠোর হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইন

মেলবোর্ন, ২৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ‘জবাবদিহিহীন…

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, আহত দেড় হাজারের বেশি

মেলবোর্ন, ২৬ জুন-দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৫২০ জন।…

অস্ট্রেলিয়া বনাম প্যারাগুয়ে: গ্রুপ ডি-তে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে সকারুজ

মেলবোর্ন, ২৬ জুন: গ্রুপ ডি’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। লক্ষ্য একটাই—দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ সহজ পথে এগিয়ে যাওয়া।…

অস্ট্রেলিয়ায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা, গুপ্তহত্যারও সতর্কবার্তা

মেলবোর্ন, ২৬ জুন: অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও (ASIO)-এর মহাপরিচালক মাইক বার্জেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এমনকি লক্ষ্যভিত্তিক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au