সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা? অর্থ কারা দিচ্ছে?
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে।…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ‘জবাবদিহিহীন ক্ষমতা’ নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও যাতে আইনটি টিকে থাকতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক কমিশনারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউবসহ বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত
এই আইন প্রণয়নের পেছনে দেশটির অন্যতম বৃহৎ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচারণা এবং ‘লেট দেম বি কিডস’ শীর্ষক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যার সঙ্গে আগের প্রজন্মকে কখনো লড়াই করতে হয়নি। তাই বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, বিপুল মুনাফা অর্জনকারী এবং প্রায় জবাবদিহিহীনভাবে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর এত বিশাল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে দেওয়া যায় না।
সম্প্রতি অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক কমিশনার জুলি ইনম্যান-গ্রান্ট মন্তব্য করেন, বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের জন্য তাঁর দপ্তরের হাতে পর্যাপ্ত কার্যকর ক্ষমতা নেই। তিনি আইনটিকে “খুবই দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কাঠামো” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ততটাই কার্যকর, যতটা ক্ষমতা ও সম্পদ তাকে দেওয়া হয়।
এর পরই সরকার আইন আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা শুরু করে। সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার কমিশনারের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
গত মে মাসে জুলি ইনম্যান-গ্রান্ট জানান, মার্চ মাসে পরিচালিত নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর আচরণে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে তারা আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ ঠেকাতে “যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ” নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই জানতে চাইছেন কেন এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি। কিন্তু শুধু একটি বোতাম চাপলেই জরিমানা করা যায় না। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করতে হলে আদালতে শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়।
এদিকে চলতি বছরের মার্চে ৯০০ অস্ট্রেলীয় অভিভাবকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আইন কার্যকর হওয়ার পরও ৩১ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, তাঁদের সন্তানদের অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার আগে এই হার ছিল ৪১ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার আগে যারা ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক ব্যবহার করত, তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো কোনো না কোনোভাবে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছে।
জরিপের ফল প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস এ পরিস্থিতিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au