১৫ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ার পর, তোরখাম সীমান্তে যাওয়ার রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৫ নভেম্বর- পাকিস্তান হয়ে পণ্য আনা–নেওয়ার দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে আফগানিস্তান এখন ভারত–সমর্থিত ইরান রুটের দিকে ঝুঁকছে। চাবাহার বন্দরভিত্তিক এই বাণিজ্য পথকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল মনে করছে তালেবান প্রশাসন। ফলে পাকিস্তানকে এড়িয়ে নতুন করিডোর ব্যবহারে আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আফগান বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চাবাহার রুটে পণ্যের চলাচল তুলনামূলক দ্রুত, কম খরচে এবং বিরতি ছাড়া সম্পন্ন হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্তে প্রায়ই যে জট, শুল্ক জটিলতা এবং আকস্মিক বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়, এই রুটে তেমন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না।
ইরান ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা চাবাহার বন্দরের সম্প্রসারণ আফগানিস্তানকে মধ্য এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বাজারে নতুনভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, খনিজ এবং শুকনো ফল রপ্তানিতে এই রুট এখন অন্যতম প্রধান বিকল্প হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ার কারণে আফগান ব্যবসায়ীরা স্থায়ী বিকল্প খুঁজছিলেন। চাবাহার বন্দর সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে। একই সঙ্গে ভারতও এই রুটকে আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রুটটি সক্রিয় রাখতে ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবু আফগানিস্তান বলছে, বাণিজ্যের স্বার্থেই তারা বিকল্প পথ ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।
সুত্রঃ রয়টার্স