‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত হাইড্রোজেন কীভাবে উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ঘরে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কম নিঃসরণে পৌঁছানো যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা-মডেল তৈরি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির গবেষকরা। দলের নেতৃত্বে আছেন ড. সুভাষ সাহা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে এলসেভিয়ারের জার্নাল Cleaner Logistics and Supply Chain-এ।
এই মডেলের নাম Household Hydrogen Supply Chain বা HHSC। এটি নীতিনির্ধারক, সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘরে পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপে কীভাবে বিনিয়োগ করা উচিত তা বুঝতে সাহায্য করবে। অস্ট্রেলিয়া দ্রুত সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন বাড়াচ্ছে, কিন্তু সেই উৎপাদনকে বাস্তবে গৃহস্থালী জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করতে হলে কোথায় হাইড্রোজেন হাব হবে, কত স্টোরেজ দরকার, সড়কে ট্যাংকারে হাইড্রোজেন পাঠানো ভালো নাকি পাইপলাইন তৈরি করা হবে কি না, এসব সিদ্ধান্ত নিতে খরচ, নির্ভরযোগ্যতা এবং কার্বন নিঃসরণ একসঙ্গে হিসাব করা জরুরি। নতুন মডেলটি ঠিক এই বিষয়গুলোই বিশ্লেষণ করে।
গবেষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ হাইড্রোজেন পরিকল্পনা শিল্প বা রপ্তানি খাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু ঘরোয়া ব্যবহারের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দাবি করে। কারণ ঘরে হিটিং, গরম পানি, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং বন্যা বা দাবানলের সময় ধারাবাহিক সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। HHSC মডেলটি কয়েক ধাপে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। শুরুতে সড়কপথে সরবরাহ ও ছোট ছোট স্টোরেজ ইউনিট, আর ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে বড় হাব ও পাইপলাইন নির্মাণের মতো উন্নয়ন ধাপে ধাপে করা যাবে। এতে সরকারের বা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ একবারে আটকে না গিয়ে সময় অনুযায়ী বাড়ানো যাবে।
সাম্প্রতিক জাতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার হাইড্রোজেন খাতের সাফল্য শুধু কম দামে উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে না, বরং এটিকে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে। তাই প্রযুক্তি নির্বাচন, পরিবহন পদ্ধতি, নিরাপত্তা মানদণ্ড, সরকারি প্রণোদনা ও অবকাঠামো বিনিয়োগ মিলিয়ে কোন পরিস্থিতিতে কোন সমাধান সবচেয়ে কার্যকর হবে তা নির্ণয় করতে সক্ষম এমন পরিকল্পনা-ফ্রেমওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মডেলটি নীতিনির্ধারকদের জন্য কয়েকটি সহায়ক সুবিধা দিচ্ছে। যেমন
চাহিদা বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বা কার্বন নিঃসরণের ওপর ভিত্তি করে কোন নেটওয়ার্ক ডিজাইন বেশি কার্যকর হবে তা পরীক্ষা করা।
সড়ক ও পাইপলাইন, কোনটি কখন বেশি লাভজনক এবং কোন এলাকায় এটি উপযুক্ত হবে তা তুলনামূলকভাবে দেখা।
সরকারি নীতি যেমন ভর্তুকি, পরিবহন করিডর, নিরাপত্তা মানদণ্ড ইত্যাদি গৃহস্থালির খরচ ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেই মূল্যায়ন।
ড. সুভাষ সাহা বলেন, ভবিষ্যতে তারা এই মডেলে আরও নতুন বিশ্লেষণ যুক্ত করবেন। যেমন বন্যা বা দাবানলের সময় সরবরাহ কতটা টিকে থাকবে, ঘরোয়া যন্ত্রপাতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, হাইব্রিড ব্যবস্থায় (হাইড্রোজেনের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও তাপ-সংরক্ষণ) পিক চাহিদা কীভাবে সামলানো যাবে, এসব দিকও যুক্ত করা হবে। তার মতে, শক্তিশালী পরিকল্পনা থাকলে অস্ট্রেলিয়া তার বড় হাইড্রোজেন উৎপাদনকে বাস্তব জীবনেও নিরাপদ ও সাশ্রয়ীভাবে মানুষের ঘরে পৌঁছাতে পারবে।
গবেষণা দলে ড. সাহার পাশাপাশি কাজ করেছেন প্রান্ত চক্রবর্তী, এসোসিয়েট প্রফেসর আন্দ্রিয়া ত্রিয়ানি এবং UTS বিজনেস স্কুলের এসোসিয়েট প্রফেসর সঞ্জয় পাল।
সুত্রঃ ScienceDirect
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au