আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্র যে ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল, তার নতুন সংশোধনীগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পনার যে অংশগুলো রাশিয়ার অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায় বলে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ আপত্তি জানায়, সেগুলো বাদ দিয়েই সংশোধিত খসড়া তৈরি হয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেছেন, এখন মনে হচ্ছে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের তালিকা তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, সংশোধিত খসড়ায় অনেক প্রয়োজনীয় বিষয় যুক্ত হয়েছে।
ইতিমধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও বেড়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো জানিয়েছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় রাজধানীর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঠিক হলে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ এবং মেরামতের কাজ শুরু হবে।
রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠক কিয়েভ এবং ইউরোপীয়ান মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। আলোচনায় রাশিয়ার কেউ উপস্থিত ছিল না। এর আগে গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কর্মকর্তারা একসাথে পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছিলেন।
এদিকে ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা সংশোধিত পরিকল্পনাগুলোকে অগঠনমূলক বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার পক্ষে কোনো অবস্থান নেয়নি। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে কোনো পক্ষকে সমানভাবে সমর্থন করে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে পারে এমন একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদী।
জেনেভার বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ভালো কিছু হতে পারে, তবে সবকিছু নিজের চোখে দেখার আগ পর্যন্ত বিশ্বাস করা উচিত নয়।
শান্তি পরিকল্পনাটি রাশিয়ার ইচ্ছামতো তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আলোচনার শুরু হয়। কারণ খসড়ার কয়েকটি বিষয় মস্কোর দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে মিলে যায়।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে জেলেনস্কি বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনাটি সঠিক পথে এগোচ্ছে। তিনি জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। তবে কবে আলোচনা হবে, তা তিনি জানাননি।
জেলেনস্কির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ফাঁস হওয়া ২৮ দফার প্রস্তাব এখন আর বহাল নেই। নতুন পরিকল্পনায় মাত্র ১৯টি দফা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়, অর্থাৎ ভূখণ্ডগত ছাড়ের মতো বিষয়গুলো নেতাদের সরাসরি সিদ্ধান্তের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হবে, যেখানে উন্নয়ন এবং শান্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, ইউক্রেনে স্থায়ী এবং ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ এখনও শেষ হয়নি।
এদিকে মস্কো বলছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ক্রেমলিনের বিদেশনীতি বিষয়ক সহকারী ইউরি ইউশাকভ বলেন, তাদের দৃষ্টিতে এই পরিকল্পনা গঠনমূলক নয় এবং রাশিয়ার স্বার্থের সঙ্গে যায় না।
জেলেনস্কির মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাশিয়া দখল করা অঞ্চলগুলোকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করছে। ট্রাম্পের মন্তব্য যে ইউক্রেনকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে মার্কিন পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, নাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে হতে পারে, সেই মন্তব্য ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ায়। তাই দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হয়।
উত্তর হিসাবে ইউক্রেনের পক্ষে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি পাল্টা খসড়া দেয়, যেখানে রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলোর কোনো স্বীকৃতি রাখেনি। বরং ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আরও বড় করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়া চায় দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হোক। ক্রাইমিয়া, খেরসন এবং ঝাপোরিজঝিয়ার বেশিরভাগ অংশও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জেনেভার আলোচনায় মার্কিন খসড়াটিকেই কেন্দ্র ধরে এগোনো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকেও ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা। একইসাথে লুহানস্ক এবং ক্রাইমিয়ার ওপর রাশিয়ার কার্যত নিয়ন্ত্রণ থাকবে। খেরসন ও ঝাপোরিজঝিয়ার সীমানা বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী স্থির করার কথাও আছে।
এ পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ছয় লাখে নামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় আট লাখ আশি হাজার সদস্য রয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন ন্যাটো সদস্যপদ চাইবে না এমন অঙ্গীকারকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে।
গত চার বছরে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে অসংখ্য সৈন্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মধ্যেই শান্তি আলোচনার পথ খোঁজা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au