মেলবোর্ন, ২৯ নভেম্বর- দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর চূড়ান্ত খসড়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রস্তাব বাদ দেওয়ায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি জবাবদিহিমূলক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের জন্য যে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি জনআস্থার সংকটে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা ও প্রতিপক্ষকে টার্গেট করার হাতিয়ার হিসেবে দুদক ব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, তা ভাঙতে এ কমিটি ছিল অত্যন্ত জরুরি। সরকার সেই গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি।
তিনি মনে করেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকার পরও এ প্রস্তাব বাদ দেওয়া সরকারের নিজের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। তাঁর ভাষায়, এটি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংস্কারপ্রচেষ্টা এখনো শক্ত প্রতিরোধের মুখে।
বিবৃতিতে টিআইবি আরও জানায়, প্রস্তাবিত কমিটি থাকলে ছয় মাস অন্তর দুদকের কাজ পর্যালোচনা, গণশুনানি আয়োজন এবং পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীনভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। সংস্থাটির মতে, এটি বাদ দেওয়া রাষ্ট্রসংস্কারের ঘোষিত লক্ষ্যকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, যখন সরকার নিজেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তখন দুদককে জবাবদিহির বাইরে রেখে দেশবাসীর কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি মনে করে, চূড়ান্ত অধ্যাদেশে কৌশলগত এই সুপারিশ না থাকা অত্যন্ত পরিতাপের এবং সংস্কারবিরোধী শক্তি প্রভাবশালী হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত।
দুদক অধ্যাদেশ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চললেও টিআইবির ভাষ্য, প্রস্তাবিত এই কমিটি বাদ দেওয়ায় দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।