ময়মনসিংহের ভালুকায় রবেন্দ্র ঋষির স্বজনদের আহাজারি। ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুনে ঢুকে রবেন্দ্র ঋষি নামে এক নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে একই দিনে দেশের দুই জেলায় দুই হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে নীলফামারীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকার কাশেমের বাসায় ভাড়া থেকে সেলুনের ব্যবসা করতেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার জন্য প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা দিতেন না। কিছুদিন ধরে টাকা না দেওয়া এবং চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন সূচিত্রা। ওই বিরোধের জেরেই সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে দাবি তাঁর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলুনে ঢুকে রবেন্দ্রকে ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রবেন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানেও তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির উঠানে তাঁকে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করা হয়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে নীলফামারীর ডোমারে শ্যামল শর্মা নামে আরেক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত শ্যামল শর্মা হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা মধ্যপাড়া গ্রামের শুসেন শীলের ছেলে। তাঁর ছোট ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শালমারা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) এবং রাজশাহীর রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (২৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগমকে নীলাহাটি গ্রামে নিয়ে আসেন শ্যামল শর্মাসহ কয়েকজন। পরে সোমবার রাতে তাঁরা ওই নারীকে নীলাহাটি বাঁশবাগানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্যামলকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রশিদ ও শাহনাজ বেগমকে আটক করেন। পরে শ্যামলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।