সময়ের খেয়া
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ইতিহাসের পাতা উল্টালে প্রথমেই যে নামটা জ্বলজ্বল করে ওঠে, সে নাম—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। রোজ গার্ডেনে জন্ম নেওয়া একটা…
মেলবোর্ন, ৩০ নভেম্বর- ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্রমেই শুষ্ক হয়ে উঠছে। দুই দশকের স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপজুড়ে মিষ্টি পানির মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। স্পেন ও ইতালি থেকে শুরু করে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, রোমানিয়া, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের পূর্বাঞ্চল বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির ঘাটতি তীব্র হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস ও দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে ২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রের পরিবর্তন ধরে এই স্যাটেলাইটগুলো ভূগর্ভস্থ পানি, নদী, হ্রদ, হিমবাহের পানি এবং মাটির আর্দ্রতার ওঠানামা নির্ণয় করে। পানির ওজন বেশি হওয়ায় মাধ্যাকর্ষণের পরিবর্তনে এসব সংকেত স্পষ্ট হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া, যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ এবং পর্তুগালের পশ্চিম দিক ক্রমশ আরও আর্দ্র হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত শুষ্কতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা মহাদেশজুড়ে পানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউসিএলের পানিসংকট ও ঝুঁকি হ্রাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দুহা বলেন, মোট পানি মজুতের ডেটার সঙ্গে জলবায়ু সূচকের সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, এ তথ্য বিশেষ করে কার্বন নির্গমন কমানো নিয়ে দ্বিধায় থাকা নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির মজুতও একই প্রবণতা অনুসরণ করছে। ডক্টরাল গবেষক আরিফিন ভূতলস্থ পানি থেকে ভূগর্ভস্থ অংশকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, লুকানো জলাধারগুলোর অবস্থাও দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা ইউরোপের পানিসম্পদ সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।
অধ্যাপক শামসুদ্দুহা আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ভিজে উঠছে যখন পূর্বাঞ্চল দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব একটা কমেনি, তবে বৃষ্টির ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে ভারী বর্ষণ এবং দীর্ঘ শুষ্ক সময়কাল এখন নিয়মিত চিত্র।
গবেষকেরা মনে করছেন, এই প্রবণতা যদি বজায় থাকে, তবে ইউরোপজুড়ে কৃষি, শিল্প, পানীয় জলের মজুত এবং নদী-হ্রদের প্রতিবেশব্যবস্থা গুরুতর চাপে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপই একমাত্র পথ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au