বাংলাদেশ

বিজয়ের মাসে: রণাঙ্গনে তীব্র লড়াই, শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা

  • 3:41 pm - December 01, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০২ বার
ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- মুক্তিযুদ্ধের আট মাস পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিন। দেশের বিভিন্ন ফ্রন্টে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী এগিয়ে চলছে দ্রুত। একই সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয় তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পূর্ব পাকিস্তানে পর্যবেক্ষক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব এবং ভারতকে বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের হুমকি।

তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাক ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন জানায়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৮ নভেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে সীমান্তে পর্যবেক্ষক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এর পরদিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ কিটিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে রিচার্ড নিক্সনের বার্তা পৌঁছে দেন। বার্তায় ভারতের প্রতি বৈদেশিক সহায়তা স্থগিতের সতর্কতা ছিল, যা নয়াদিল্লিতে ক্ষোভ তৈরি করে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র চার্লস ব্রে দাবি করেন, উত্তেজনা কমানো এবং সৈন্য প্রত্যাহারে পর্যবেক্ষক পাঠানো কার্যকর হতে পারে। সেই অবস্থানকেও ভারত পক্ষ নীরব সমর্থন হিসেবে দেখেছিল পাকিস্তান সরকারের জন্য।

এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে ১ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বিজয়ের মুহূর্তে বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানো এক ধরনের চক্রান্ত। গণহত্যার সময় যারা নীরব ছিলেন, তারা এখন হস্তক্ষেপের পথ খুঁজছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় একের পর এক কৌশলগত এলাকা মুক্ত করতে থাকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, নভেম্বরের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বাহিনী প্রবেশের কথা স্বীকার করে দিল্লি। ১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের হিলিতে রেললাইন কেটে পাকিস্তানি সেনাদের রসদ সরবরাহ থামিয়ে দেওয়া হয়।

ধরলা নদী পেরিয়ে কুড়িগ্রামে কঠোর লড়াই চলে। কয়েকশ কিলোমিটার দূরে সিলেটের শমশেরনগর শহর দখল হয় মুক্তিবাহিনী–ভারতের যৌথ অভিযানে। পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে কুলাউড়ায় আশ্রয় নেয়। কানাইঘাট, জুড়ী ও বড়লেখার বিভিন্ন স্থানে তীব্র সংঘর্ষে বহু পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত হয়।

দর্শনায়ও চলছিল ভয়াবহ যুদ্ধ। কুষ্টিয়া–চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের এই অঞ্চল মুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

মুজিবনগর সরকার সেদিন ঘোষণা দেয়, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, রাজশাহী, যশোরের মোট ৬২টি থানা এবং নোয়াখালীর সব চরে অসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হানাদারমুক্ত এলাকা ছড়িয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার বর্গকিলোমিটারে।

পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনালের বরাত দিয়ে করাচির প্রচারমাধ্যমগুলো দাবি করে, দর্শনা ও শমশেরনগরে ভারতীয় হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। হিলি ও কমলপুরে ভারতীয় বাহিনী নাকি “মার খেয়ে” পিছিয়ে গেছে। এক বিবৃতিতে চারটি স্থানে ১৩০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করে পাকিস্তানি পক্ষ।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১২টি স্থানে যৌথ বাহিনীর আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনারা কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাদের অগ্রযাত্রার মুখে তারা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পিছু হটতে থাকে।

ডিসেম্বরের প্রথম দিন শেষ হয় অগ্রগতি, কূটনৈতিক চাপ এবং আসন্ন বিজয়ের প্রতিশ্রুতিতে। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায় তখন আর মাত্র কদিন দূরে।

এই শাখার আরও খবর

আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…

দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না

সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি মিলছে না বলে…

দুর্গোৎসবের আবহে সিডনিতে ‘দশেরা এক্সিবিশন’, এক ছাদের নিচে মিলবে দেশীয় ফ্যাশনের বৈচিত্র্য

শতদল তালুকদার, সিডনি: প্রবাসের মাটিতে বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য, নান্দনিকতা এবং উৎসবের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলতে সিডনির গ্রানভিল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে…

অস্ট্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধের উদ্যোগ

‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রিয়া সরকার। দেশটির সংবিধানের আওতায় এসব সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের…

ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…

সন্তানকে সম্পত্তি দানের পরও বাবা-মায়ের অধিকার, সংসদে বিল পাস

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au