মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ‘প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি’র অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় দিয়েছে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক সহ মোট ১৭ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
বিচারক রবিউল আলম সোমবার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্লটটি যেহেতু রেহানার নামে বরাদ্দ হয়েছিল, তাই তার নামেই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার বাকি ১৪ আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে শেখ রেহানার নামে পূর্বাচলের যে প্লট বরাদ্দ ছিল, তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি : সংগৃহীত
১. শেখ রেহানা
পরিচয়: বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন
সাজা: ৭ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
২. শেখ হাসিনা
পরিচয়: সাবেক প্রধানমন্ত্রী
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৩. টিউলিপ সিদ্দিক
পরিচয়: শেখ রেহানার মেয়ে, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী
সাজা: ২ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৪. শরীফ আহমেদ
পরিচয়: সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৫. কাজী ওয়াছি উদ্দিন
পরিচয়: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৬. পূরবী গোলদার
পরিচয়: গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৭. অলিউল্লাহ
পরিচয়: গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৮. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন
পরিচয়: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
৯. মোহাম্মদ খুরশীদ আলম
পরিচয়: রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
(তিনি একমাত্র আসামি যিনি কারাগারে ছিলেন এবং রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন)
১০. আনিছুর রহমান মিঞা
পরিচয়: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১১. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন
পরিচয়: রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১২. সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী
পরিচয়: রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১৩. তন্ময় দাস
পরিচয়: রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১৪. নুরুল ইসলাম
পরিচয়: রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি ২)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১৫. মাজহারুল ইসলাম
পরিচয়: রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি ৩)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১৬. নায়েব আলী শরীফ
পরিচয়: রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি ৩)
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
১৭. সাইফুল ইসলাম সরকার
পরিচয়: গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা
সাজা: ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা
মামলার অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ
বিগত সরকারের সময়ে পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনে ১০ কাঠার ছয়টি প্লট শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ছবি : সংগৃহীত
তদন্তে অভিযোগ ওঠে, যাদের আবাসন ছিল তারা সেই তথ্য লুকিয়ে, আইন ভেঙে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। দুদক অনুসন্ধান করে পর্যায়ক্রমে ছয়টি মামলা দায়ের করে।
এই মামলায় অভিযোগ ছিল, রাজউকে কোনও আবেদন ছাড়াই রেহানা সরাসরি তার বোন শেখ হাসিনার মাধ্যমে প্লট সংগ্রহ করেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দে সহায়তা করেন। টিউলিপ সিদ্দিকও খালার ওপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
রাজউকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অনুযায়ী অবৈধভাবে নথিতে সই, সুপারিশ ও অনুমোদন করেন।
১৭ আসামির মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম কারাগারে ছিলেন। বাকিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলে এবং তাদের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিল না।
বিচারের শেষ দিনে খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
দুদক ও আসামিপক্ষ উভয়েই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দুদক বলেছে তারা সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছিল। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে তারা আপিল করবে।
পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে হাই কোর্টও তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের মামলাগুলো আসে।
এর আগে একই ধরনের তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার ছেলে জয় এবং মেয়ে পুতুলকেও পাঁচ বছর করে সাজা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au