মেলবোর্ন, ৪ ডিসেম্বর- ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবার লাশ উদ্ধারকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোক আর হতবাক অবস্থা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে নিখোঁজ থাকা শিশুটিকে রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশীর ঘরের খাটের নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সাইমা আক্তার সাবা পবহাটি এলাকার ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের মেয়ে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশেই খেলার সময় সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও শিশুটির কোনো খোঁজ পাননি। বিকেল পর্যন্ত কোনো সন্ধান না মেলায় শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
রাত ৯টার দিকে নতুন করে সন্দেহ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী মাসুদ হোসেনের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে বোরকা পরে অস্বাভাবিক আচরণ করে বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন মিলে তার ঘরে ঢুকে খাটের নিচে ছোট্ট সাইমার নিথর দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে শান্তনা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের এসআই মনোজ কুমার ঘোষ জানান, সকালে নিখোঁজের পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হলেও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। রাত ১০টার দিকে মাসুদের ঘর থেকেই মরদেহ পাওয়া যায়। তার ভাষায়, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
শিশু সাইমার বাবা সাইদুল ইসলাম অভিযোগ তুলে বলেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিখোঁজের পর থানায় জিডি করলেও পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তিনি সন্তানের হত্যার বিচার চান।
থানার পরিদর্শক শামসুজ্জোহা জানান, নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর পুলিশ খোঁজাখুঁজি করছিল। তবে শিশুটিকে কোথাও পাওয়া যায়নি। তার মতে, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রমাণ মিলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।