ফরমেশন বদলে পুরোনো ছকে ফিরছে ব্রাজিল
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ব্রাজিল। দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না গিয়ে…
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বন্দুক ও বোমা হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারী, সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সমর্থিত সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)।
নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত এ হামলায় ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া চার হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একাধিক আরপিজি-৭ রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার, বেশ কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, হ্যান্ড গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো যানবাহনের টায়ার বিস্ফোরিত হয়েছে। পরে টানা গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।
দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর একটি। এটি মূলত বেসামরিক বিমানবন্দর হলেও সেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি সাহেল অঞ্চলের তিন দেশ নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত।
নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ৩৫০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জঙ্গিরা হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতির মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করে জেএনআইএম। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক আল-কায়েদার সমর্থনপুষ্ট এবং সাহেল অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাইজারের সরকার ও সেনাবাহিনী বিভিন্ন কট্টরপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা, হামলা এবং নিরাপত্তা সংকট দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। সেবার ইসলামিক স্টেট সমর্থিত একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় একজন সেনাসদস্য ও ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল।
বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে পরিচালিত নাইজারে নতুন এই হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং জেএনআইএমের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au