১৮ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপে প্রাণের সন্ধান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার…
মেলবোর্ন, ৫ ডিসেম্বর- যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করে দিচ্ছে। ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, আশ্রয় আবেদনের বাড়তি প্রবণতা এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত নয়টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দুই দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় বিবেচনা করে ভর্তি কমিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় আবেদনের হার দ্রুত বাড়তে থাকায় ব্রিটিশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চাপ দিচ্ছে যেন তারা কেবল প্রকৃত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে। সীমান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ইগল সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা বা স্টুডেন্ট রুটকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার গোপন রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ভর্তি ২০২৬ সালের শরৎ পর্যন্ত স্থগিত করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতক পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে।
এর পাশাপাশি সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ও এই দুই দেশ থেকে ভর্তি বন্ধ রেখেছে। সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ, এবং এ নিয়ে তাদের কোনো দুঃখ নেই।
চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসা স্পনসর লাইসেন্স বজায় রাখার শর্তে পরিবর্তন আনে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভিসা বাতিল হলেও সমস্যায় পড়ত না, কিন্তু নতুন নিয়মে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মের অপব্যবহার ঠেকানোই এর মূল লক্ষ্য।
কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ ও ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, নতুন সীমার চার গুণের কাছাকাছি। একই সময়ে ব্রিটিশ হোম অফিস যে ২৩ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করেছে, তার অর্ধেকই এসেছে এই দুই দেশ থেকে। দুই দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভর্তি নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। অক্সফোর্ড ব্রুকস আগামী বছরের জানুয়ারির সেশনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি আপাতত বন্ধ রেখেছে, কারণ হিসেবে তারা ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কথা বলছে। সেসব দেশের জন্য ভর্তি আবার শুরু হতে পারে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিপিপি ইউনিভার্সিটি ‘ঝুঁকি প্রশমন’-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানি ভর্তি স্থগিত করেছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় গত গ্রীষ্মেই বাংলাদেশ থেকে ভর্তি বন্ধ করেছে। তাদের দাবি, ভিসা বাতিলের ৬০ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের থেকে।
লাহোরভিত্তিক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স অ্যাডভাইজরসের প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম আব্বাস বলেছেন, শেষ পর্যায়ে এসে ভিসা বাতিল হওয়ায় প্রকৃত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বল যাচাইয়ের কারণে জাল আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তার মতে, বিদেশি রিক্রুটমেন্ট এজেন্টদের কঠোরভাবে যাচাই করা জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au