শনিবার দুপুরে হঠাৎ বাতাসের দিক বদলে যাওয়ায় কোলোয়োং এলাকার দিকে আগুন দ্রুত ধেয়ে আসে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট্রাল কোস্ট এলাকায় আকস্মিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ১২টি বাড়ি পুড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার দুপুরে হঠাৎ বাতাসের দিক বদলে যাওয়ায় কোলোয়োং এলাকার দিকে আগুন দ্রুত ধেয়ে আসে। গসফোর্ড এবং ওয়য় ওয়য়ের মাঝামাঝি এই অঞ্চলটির বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর ক্রিস মিনস জানান, অন্তত ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, রাতেও বজ্রপাত এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০টি ফায়ারট্রাক, ২৫০ জন ফায়ারফাইটার এবং ৯টি ওয়াটারবোম্বিং বিমান কাজ করছিল। সারা রাজ্যে প্রায় ১১০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী রাতভর আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান।
দুপুর গড়িয়ে বিকেলে আগুন এক কিলোমিটার দূরে ওয়য় ওয়য় বে পেরিয়ে পিগান্স বে এবং ওয়য় ওয়য় বে রোড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িগুলোতে অবস্থান করা বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় অনেককে আশ্রয় নিতে বলা হয়। গসফোর্ড আরএসএলে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলে প্রায় ৬০ জন সেখানে অবস্থান নেন। আরও অনেকে নিজেরাই নিরাপদ জায়গায় চলে যান।
‘সবকিছু শেষ’
ঘন জঙ্গলে থাকা সুন্দর বাড়িগুলোর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে বাসিন্দাদের কেউ কেউ ঘরে ফিরেই দেখেছেন সব শেষ।
টনি স্টেলিনো নামের এক বাসিন্দা ঘটনার আগেই অনুভব করেছিলেন যে তাঁর বাড়ির আর রক্ষা নেই। রাতে ঘরে ফিরতে না পারলেও তিনি জানতেন সবকিছু পুড়ে ছাই। তিনি বলেন, “যখন বাইরে গিয়ে আগুন দেখি, মনে হলো সব আমাদের ওপর উঠে এসেছে। আমরা বেঁচে গেছি এটাই বড় কথা। আবার শুরু করব। সবকিছু শেষ। স্মৃতি, কাপড়চোপড়, যা কিছু ছিল সব পুড়ে গেছে।”
প্রধানমন্ত্রী মিনস ৯নিউজকে বলেন, বড়দিনের আগ মুহূর্তে এমন ক্ষতি বাসিন্দাদের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আগুন নিয়ন্ত্রণে রাতভর লড়াই
আরএফএস কমিশনার ট্রেন্ট কার্টিন জানান, আগুনটি দুপুর ১টার দিকে একটি পার্ক এলাকায় শুরু হয়। প্রবল বাতাস, তাপমাত্রা এবং দুর্গম জায়গা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে। তিনি বলেন, প্রথমে ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, যা দ্রুত জরুরি সতর্কতায় রূপ নেয়।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে সতর্কতা আবার ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট–এ নামানো হয়, তবে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। তিনি জানান, রাতে বজ্রপাতের ফলে নতুন আগুন লাগতে পারে। রাত ২টা থেকে ৫টার মধ্যে হঠাৎ বাতাসের দিক পরিবর্তনেরও পূর্বাভাস ছিল, যা দমকলের কাজকে কঠিন করে তোলে।
কোলোয়োংয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর বিশাল চিনুক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ওয়াটারবোম্বিং হেলিকপ্টার, যা রাতেও কাজ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আক্রান্ত বাসিন্দা এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাছে সমর্থন জানিয়ে বলেন, সবাইকে একে অপরের খেয়াল রাখার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
রাজ্যজুড়ে আরও আগুন
শুধু কোলোয়োংয়ে নয়, গতকাল দুপুর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৫টি বনানল জ্বলছিল, যার মধ্যে ১৯টি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ৩০০টি ফায়ারট্রাক এবং ১১০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী মাঠে কাজ করছিলেন।
বুলাহডেলায় একটি আগুনে দুই হাজার পাঁচশ হেক্টরের মতো এলাকা পুড়ে গেছে। গোলবার্ন রিভার ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকায় মানুষকে ঘরে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
বেয়ারামি, উইডেন, কেরাবি এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের আগুন থেকে রক্ষা পেতে ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মেরিওয়া আরএসএল ক্লাব, মেরিওয়া শোগ্রাউন্ড, ডেনম্যান আরএসএল ক্লাব এবং ডেনম্যান পনি ক্লাবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা ছিল।
উত্তপ্ত আবহাওয়ায় গতকাল নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে যায়। সিডনির পেনরিথে তাপমাত্রা ছিল ৪১.৭ ডিগ্রি। সিডনি বিমানবন্দরে ৩৯.২ ডিগ্রি রেকর্ড হয়। হান্টার ভ্যালি, সিডনি, ইলাওয়ারা এবং সেন্ট্রাল কোস্টে অতি উচ্চ অগ্নিঝুঁকি জারি করা হয়।
সূত্রঃ নাইন নিউজ