বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর- ভারতের গোয়ার উত্তর আরপুরায় জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শুরুতে পুলিশ ধারণা করেছিল যে রান্নাঘরের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লাগে, তবে পরবর্তী তদন্তে এই ধারণা বাতিল করা হয়েছে। গোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, পরিদর্শনে সিলিন্ডারগুলো অক্ষত পাওয়া গেছে।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ছয় জন আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংকীর্ণ ও ভিড়াক্রান্ত রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ক্লাবের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দোষীদের কেউ রেহাই পাবে না।
দমকল ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। নিহতদের মধ্যে চারজন পর্যটক এবং ১৪ জন কর্মচারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি সাতজন পর্যটক নাকি কর্মচারী তা শনাক্তের কাজ চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রথম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়, তখন প্রায় ১০০ জন নাচের ফ্লোরে ছিলেন। আতঙ্কে লোকজন নিচে নামতে গেলে অনেকেই রান্নাঘর এলাকায় আটকা পড়ে। এলোমেলো পরিস্থিতি ও জটিল নকশার কারণে উদ্ধারকাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কর্মকর্তারা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ভবন গ্রাস করে ফেলে এবং ভেতরে থাকা অনেকেই বের হওয়ার সময় পাননি।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহতদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রাতভর উদ্ধার অভিযান চলেছে। পুলিশ ক্লাবটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস লাইন ও জরুরি নির্গমনপথ ঠিকমতো ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্লাবের অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা হয়নি। ভবনটি ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন নেতা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ অনেকে গভীর শোক জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি মৃতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের পঞ্চাশ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
বিজেপি এমএলএ মাইকেল লোবো জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই ক্লাবের বেইসমেন্টে কাজ করা স্থানীয় কর্মী ছিলেন। তিনি বলেন, অধিকাংশই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
কংগ্রেস নেতারা এ ঘটনাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রঃ এনডিটিভি