মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- বেগম রোকেয়া দিবসের দিনেই নারী জাগরণের অগ্রদূতকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিতর্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। নারীশিক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়ে অগ্রগামী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আজ যেখানেই চার বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়, একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য আঘাত হেনেছে বহু মানুষের অনুভূতিতে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ এবং ‘কাফির’ বলে উল্লেখ করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই ছাত্রছাত্রীসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষকের ভাষ্য, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার করে তার সঙ্গে নিজের মন্তব্য যোগ করেছেন। তার দাবি, সেই পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে বেগম রোকেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। যদিও এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং গবেষণামূলক কাজেও এমন কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষক হিসেবে এমন মন্তব্য অসৌজন্যমূলক এবং অযাচিত। তিনি এটিকে শিক্ষকের ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করলেও স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিজে এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেন না।
তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ছাত্র সংগঠনও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরমা পারমিতা বলেন, বেগম রোকেয়া ছিলেন উপমহাদেশে নারীশিক্ষা বিস্তার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাকে ধর্মীয় গালি দিয়ে হেয় করার চেষ্টা শুধু অসম্মানজনক নয়, বরং ইতিহাস ও মানবিক চেতনাকে অগ্রাহ্য করার শামিল। তার মতে, রোকেয়ার সমালোচনা করতে হলে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে নয়।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা স্পষ্ট। অনেকের মত, যে দিনে রাষ্ট্র তার অবদানের স্বীকৃতি দেয়, সে দিনই একজন শিক্ষক তাকে অপমান করায় আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে চলমান বিতর্ক আরও বড় আলোচনায় রূপ নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুত্রঃ ইত্তেফাক