চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন আয়েশা, এরপরই মা–মেয়েকে ছুরিকাঘাত।
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা লায়লা আফরোজ ও মেয়ে নাফিসাকে হত্যার অভিযোগে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা জানিয়েছেন, কিছু মালামাল চুরি করে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গৃহকর্ত্রী তাকে ধরে ফেলেন। সেই মুহূর্তে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে লায়লা আফরোজকে আঘাত করেন তিনি। এ সময় মা’কে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মেয়েকে, নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকেও ছুরিকাঘাত করেন।
বুধবার ঝালকাঠির নলছিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য নিশ্চিত করেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম মাছুম। দুপুরে নলছিটির কয়ার চর গ্রাম থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বামী রবিউল ইসলামও একই সময় ধরা পড়েন। মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে থানার নয় সদস্যের টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
গত সোমবার সকালে শাহজাহান রোডের ওই বাসায় খুন হন লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা (১৫)। ঘটনার সময় গৃহকর্মী আয়েশাকে সিসিটিভি ফুটেজে বোরকা পরে ভবনে ঢুকতে এবং পরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় বের হয়ে যেতে দেখা যায়। গৃহকর্তা এম জেড আজিজুল ইসলাম ঘটনার পর গৃহকর্মীকে আসামি করে মামলা করেন।
পুলিশ বলছে, হত্যার চার দিন আগে সাততলার ওই বাসায় কাজ নেন গৃহকর্মী আয়েশা। মা–মেয়েকে হত্যার পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বের হন তিনি। নিহত লায়লা আফরোজ ছিলেন গৃহিণী। নাফিসা পড়ত মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণিতে। নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবীমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক।
সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকাল ৭টার দিকে নাফিসার বাবা বাসা থেকে বের হন। ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় ঢোকেন আয়েশা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ৯টা ৩৬ মিনিটে নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাবা ফিরে এসে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় খুঁজে পান।
পুলিশের এক সূত্র জানায়, মাকে হত্যার দৃশ্য দেখে নাফিসা ডাইনিং রুমে রাখা ইন্টারকম থেকে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ধস্তাধস্তির সময় ইন্টারকমের লাইন খুলে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বাথরুম থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ছুরি দুটিই হত্যায় ব্যবহার করেছেন আয়েশা। ঘটনার পর ভবনের দারোয়ান মালেককেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।