১১ ডিসেম্বর গাজা উপত্যকার নুসাইরাত শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা একটি গাড়িতে করে প্লাবিত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- প্রবল বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দুই বছরের যুদ্ধের কারণে যেসব পরিবার তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে তাদের অনেকগুলিই পানিতে তলিয়ে যায়। ঠাণ্ডাজনিত কারণে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
চিকিৎসকেরা বলেন, রাহাফ আবু জাজারের পরিবারের তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়ার পর শিশুটি ঠাণ্ডায় মারা যায়। কান্নায় ভেঙে পড়া রাহাফের মা হেজার আবু জাজার জানান, রাতে মেয়েকে খাইয়ে ঘুম পাড়ানোর পর ভোরে জেগে দেখেন বৃষ্টির পানি ও ঠাণ্ডা বাতাসে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তার মেয়ের কোনো রোগ ছিল না, হঠাৎ ঠাণ্ডায় প্রাণ হারিয়েছে।
ঝড়ের সাথে লড়াইয়ে অসহায় স্থানীয় পৌরসভা ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানির ঘাটতি এবং ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের কারণে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। ডজনের বেশি বুলডোজারসহ পানি নিষ্কাশনের যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তাদের দাবি।
সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানায়, উপত্যকার বেশিরভাগ তাঁবু শিবিরই পানিতে ডুবে গেছে এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে আড়াই হাজারের বেশি জরুরি কল পেয়েছে তারা। শিবিরের সরু পথগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জিনিসপত্র ভেসে যেতে দেখা গেছে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া ৭৬১টি কেন্দ্র প্লাবনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে হাজারো মানুষ আবার স্থান পরিবর্তন করেছেন। কর্মকর্তারা জানান, এখনো অন্তত তিন লাখ নতুন তাঁবুর প্রয়োজন, কারণ বিদ্যমান বেশির ভাগ আশ্রয় জীর্ণ এবং পাতলা প্লাস্টিক বা কাপড় দিয়ে তৈরি।
মানুষজন বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে লোহার রড সংগ্রহ করে তাঁবু টিকিয়ে রাখছেন বা অল্প দামে বিক্রি করছেন।
অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হামাস–নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সাহায্য প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সাহায্য সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, প্লাবিত রাস্তা ও ভেজা তাঁবু বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ঠাণ্ডা, অতিরিক্ত ভিড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পেলে এই দুর্ভোগ কমানো যেত।
গাজা সিটির জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বৃষ্টি ঝড়ে তিনটি বাড়ি ধসে পড়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স