লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে প্রতিরক্ষা রাডার ও এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা স্থাপনে জোরদার কার্যক্রম , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মে- লালমনিরহাট জেলার বিমানঘাঁটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এভিয়েশন গ্রুপের তত্ত্বাবধানে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স ও রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একাধিক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে সংবেদনশীল এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম স্থাপনের কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।
মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হরিভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত সীমান্তের কাছাকাছি এবং পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার প্রায় ২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে। এ কারণে ঘাঁটিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে এবং নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ১৬৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটির রানওয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। ১৯৩১ সালে নির্মিত এই বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এটি ব্যবহার করেছিল।
গত বছরের শেষ দিকে এখানে একটি বড় আকারের হ্যাঙ্গার নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই আধুনিক রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই প্রযুক্তি পুরোনো রাডার ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে এবং আকাশসীমায় নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থায় ট্রান্সমিটার, অ্যান্টেনা, রিসিভার ও প্রসেসরের পাশাপাশি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং অস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে, যা সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়।
এদিকে বগুড়া বিমানঘাঁটিতেও উন্নয়ন কাজ চলছে এবং সেখানেও অনুরূপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশী দেশের কিছু মহল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সামরিক কাজে ব্যবহার না করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে বর্তমান উদ্যোগকে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।