মেলবোর্ন, ৩ মে- ভারতের রাজধানী দিল্লির বিবেক বিহার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বছরের শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩ মে) ভোররাতের এই ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে চারতলা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেক বাসিন্দা ঘরের ভেতরেই আটকা পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় তারা নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন। এর মধ্যেই আগুন উপরের তলাগুলো গ্রাস করে, ফলে বের হওয়ার আর কোনো পথ না পেয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান তারা।
দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। কর্মকর্তারা জানান, বেশিরভাগ দেহই এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অরবিন্দ জৈন (৬০), তার স্ত্রী অনিতা জৈন (৫৮), ছেলে নিশান্ত জৈন (৩৫), পুত্রবধূ আঁচল জৈন (৩৩) এবং তাদের দেড় বছরের সন্তান আকাশ জৈন। এছাড়া দ্বিতীয় তলা থেকে শিখা জৈন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চতুর্থ তলায় নিতিন জৈন, তার স্ত্রী শৈলী এবং তাদের ছেলে সাম্যকও নিহত হন।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল কর্মীরা মই ব্যবহার করে ব্যালকনি থেকে তাদের নামিয়ে আনেন। ভবনটির সামনের দিকের ফ্ল্যাটগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পেছনের ফ্ল্যাটগুলোর বাসিন্দারা আটকা পড়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পেছনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা আগুন লাগার সময় ঘুমিয়ে থাকায় দ্রুত বের হতে পারেননি। কেউ কেউ সতর্ক করার সুযোগ পেলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
আগুনের তীব্রতায় ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দেয়াল, সিঁড়ি এবং ছাদের অংশে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু স্থানে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে দমকল ও পুলিশ। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।